আপনার কাছে সৌভাগ্যের সংজ্ঞা আসলে ঠিক কী তা হয়তো অনুমান করে বলা মুশকিল। তবে যদি লটারির টিকেট কিনে রাতারাতিই কোটিপতি হয়ে যাওয়ার ঘটনা আপনার জীবনে একটিবারও ঘটে থাকে তাহলে আপনাকে ভাগ্যবান ব্যক্তির তালিকাতে রাখতে চাইবেন যে কেউ-ই। কিন্তু যদি এভাবে কোটি টাকা জেতার ঘটনাও মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দু’বার ঘটে তাহলে কী বলা হবে আপনাকে? স্রেফ ভাগ্যবান না কি মহা ভাগ্যবান? বলা বাহুল্য, এতটা সুখ কল্পনা বিশ্বের সবচেয়ে আশাবাদী লোকও হয়তো করবেন না। অথচ বাস্তব যে মাঝে মাঝে কল্পনাকেও হার মানাতে পারে তার প্রমাণ হয়েই সম্প্রতি লটারি জেতায় রীতিমতো ইতিহাস গড়েছেন আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এক অধিবাসী। বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমেরিকাতেও রাজ্যভিত্তিক যে লটারিগুলো প্রচলিত আছে সেই লটারিতেই মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দু’দুবার মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় আট কোটি টাকারও বেশি) করে জয় করেছেন জোসেফ পালমারচুক নামের এই ব্যক্তি। এর মধ্যে সর্বশেষ লটারি জয়ের ঘটনা ঘটে গেল বুধবার যেখানে মিশিগানের ক্লাসিক লোটো গেম ৪৭ নামের একটি লটারির জ্যাকপট বিজয়ী হিসেবে ১.৩৫ মিলিয়ন ডলার জেতেন জোসেফ। অন্যদিকে কয়েক বছর আগে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এ ধরনের আরেকটি লটারিতে জোসেফের জেতা অর্থের পরিমাণ ছিল এক মিলিয়ন ডলার। মূলত সেবারের সেই লটারি জেতার পরই টেনেসি ছেড়ে নিজের পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্র্যান্ড রেপিডসের উত্তরে মেকোস্টা কাউন্টিতে বাসা নিয়েছিলেন জোসেফ। তবে এবার লটারি জেতার পর মিশিগানের শীতল আবহাওয়া ছেড়ে তুলনামূলক উষ্ণ কোনো স্থানে বিলাসবহুল আরেকটি কনডোমনিয়াম কেনার চিন্তা করছেন জোসেফ। এদিকে তার এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর নেপথ্যের রহস্য সন্ধানীদের জন্য নিজের অদ্ভুত এক কুসংস্কারের কথাই জানিয়েছেন জোসেফ। তিনি জানান, লটারি বিক্রেতারা সাধারণত ভুল করে যেসব টিকেট দোকান বা কাউন্টারের একপাশে রেখে দেন সেগুলোই কেনার চেষ্টা করেন তিনি। যদিও একই কাজ করলেই যে জোসেফের মতো ভাগ্য আপনার কাছে ধরা দেবে এটা বিশ্বাস করা সত্যিই বেশ কষ্টসাধ্য!
