এদেশের ফুটবলের ইতিহাসে এতো বড় বাজেটের দল আর কখনো হয়নি। প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয় ধরে ফুটবল দল গঠন করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব অভিযানে নামছে। দেশি-বিদেশি ফুটবলারদের রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে দলটি। গতকাল বিকালে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করিয়ে কোনো রাকঢাক না করে ফুটবল মৌসুমের সব কয়টি শিরোপা ঘরে তুলতে ঘোষণা দিয়েছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব সভাপতি মঞ্জুর কাদের। তিনি বলেন, আমরা তো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই দল গড়েছি। তারপরও চ্যাম্পিয়ন হতে ভাগ্য লাগে।’ তার পাশেই ছিলেন দলের নাইজেরিয়ান কোচ যোশেফ আফুসি। তিনিও বলেছেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশাটা কোনো বড়াতি চাপ এনে দেবে না।’ কোচ বলেছেন, এই দলটা ভালো কম্বিনেশনে রয়েছে।’ সব ট্রফি জেতার লক্ষ্যই তারা বড় পারিশ্রমিক দিয়ে খেলোয়াড় নিয়েছে দলে। ২০ জন দেশি এবং পাঁচ জন বিদেশি ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন ক্লাব। আরো দু’জন বিদেশি ফুটবলার ঢাকায় আসছেন আজ-কালের মধ্যে। অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের দলে প্রতিটি পজিশনে দুইজন করে খেলোয়াড় রয়েছেন। একটা দলের জন্য রিজার্ভ বেঞ্চ থাকা জরুরি।’
দেশি ২০ ফুটবলারের মধ্যে ৯ জনই নেপাল জাতীয় দলে খেলে এসেছেন। তিন জন দলে খেলেছেন চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে। এই ১১ জন ফুটবলার জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসাবেই ধরা হয়। শেখ জামালের এটাই বড় শক্তি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে আসাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, গোলকিপার জিয়াউর রহমান জিয়া, রায়হান হাসান, নাসির উদ্দিন চৌধুরি, মোবারক এবং তকলিস, লিংকন, শাখাওয়াত হোসন রনি। এই ৯ ফুটবলার ছাড়া বিভিন্ন কারণে অন্য যে দু’জন জাতীয় দলে থাকতে পারেননি, তারা হলেন কেষ্ট কুমার বোস, মোনায়েম খান রাজু। তারাও দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার। ক্লাব সভাপতি মঞ্জুর কাদের শুধু দেশি ফুটবলারদের নিয়েই ক্ষান্ত হননি। বিদেশি ফুটবলারদের তালিকাটাও দারুণ শক্ত করেছেন তিনি। গত মৌসুমে শেখ রাসেলের জার্সি গায়ে ঢাকার মাঠ মাতানো ফুটবলার সনি নর্দে এবার শেখ জামালে খেলছেন। হাইতির এই উইংগার দারুণ খেলেন। চড়া দামে শেখ জামালে খেলতে এসেছেন। ৭৩ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে তাকে নেয়া হয়েছে। শেখ জামাল সভাপতি মঞ্জুর কাদের বললেন, আমাদের ফুটবল ইতিহাসে এতো পারিশ্রমিক দিয়ে কেউ খেলোয়াড় আনেনি। কেউ আনার সাহসও করে না। আমি ফুটবলের জন্য এটা করি।’ সন্তান ইয়াবা খেয়ে বাবা মাকে খুন করছে। আমরা খেলাধুলাকে উন্নত করতে চাই কারণ খেলাধুলার মধ্যে থাকলে যুব সমাজ নেশাগ্রস্ত হবে না। আমাদের মতো কয়েকজন খেলাধুলা নিয়ে আছে। আমরা শুধু খেলা নিয়ে থাকতে চাই।’ তিনি বলেন, সরকারি ভাবে ফুটবলের জন্য কোনো বাজেট নেই। আমাদের আবেদন থাকবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে। খেলাধুলা উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন।’
তবে লিগে রেফারিরা যেন নিরপেক্ষ বাঁশি বাজান তার দাবিও করেছেন ক্লাব সভাপতি। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, রেফারিরা ম্যাচের অভিভাবক। তাদেরকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। ভালো খেলোয়াড়দের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকটাও খেয়াল রাখতে হবে।’
ঢাকার বাইরে ভেন্যুতে শেখ জামাল খেলতে যাবে কিনা সে প্রসঙ্গে ক্লাব সভাপতি বলেন, আমরা ভালো মাঠ চাই। খেলার উপযুক্ত মাঠ হলে যাবো। কয়েক জেলায় খেলতে গিয়ে দেখেছি সেখানে মাঠ ভালো না।’ ফরিদপুরে শেখ জামাল স্টেডিয়াম হয়েছে। সেখানে খেলবে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ফরিদপুরে খেলেছি। মাঠ ভালো কিন্তু আবাসন ব্যবস্থা উন্নত না। সেখানকার ডিসির সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি আমাদের জানিয়েছেন একটি ভালো মানের হোটেল হবে ফরিদপুরে। হোক আমরা যাবো।’
প্রসঙ্গ উঠেছিল দুই ক্লাব থেকে টাকা নেয়া বিতর্কিত ফুটবলারদের নিয়ে। মঞ্জুর কাদের বললেন, যারা টাকা নিয়েছে তাদের মধ্যে খেলোয়াড়ি মনোভাব থাকা উচিত। তারা নিজেরাই বলেছে দুই ক্লাব থেকে টাকা নেয়ার কথা। এখানে টাকাই সব না। আমি চেষ্টা করেও আমার প্রিয় ফুটবলার বাদল রায়কে আবাহনীতে খেলাতে পারিনি। পারিনি সালমা মুর্শেদীকে খেলাতে। যাই হোক, আশা করি এব্যাপারে বাফুফে সুন্দর সিদ্ধান্ত নেবে।’
নয় কোটি টাকার বাজেটের এই ক্লাবটিতে ইউসিবি ব্যাংক বড় একটি অর্থায়ন করে বলে জানিয়েছেন ক্লাব সভাপতি মঞ্জুর কাদের। তিনি বলেন, ব্যাংকটি ছাড়াও পারটেক্স গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার রাসেল আজীজ পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।’ এসময় ক্লাবের কর্মকর্তা এবিএম সিদ্দিক এবং লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আবদুর রহীম উপস্থিত ছিলেন।
শেখ জামাল স্কোয়াড
গোলকিপার মাকসুদুর রহমান, গোলকিপার জিয়া (মুক্তিযোদ্ধা), গোলকিপার হিমেল (আবাহনী), রিয়াদ, ইয়ামিন মুন্না, রায়হান হাসান, লিংকন (শেখ রাসেল), ইয়াসিন খান (মোহামেডান), মামুনুল ইসলাম অধিনায়ক (শেখ রাসেল), নাসির উদ্দিন চৌধুরি (সহ-অধিনায়ক), দিদার (মুক্তিযোদ্ধা), কেষ্ট কুমার বোস ( বিজেএমসি), জহিরুল (মুক্তিযোদ্ধা), মোনায়েম খান রাজু, সোহেল রানা (মোহামেডান), শাহেদুল আলম শাহেদ, আলমগীর রানা, মোবারক (মোহামেডান), শাখাওয়াত হোসেন রনি (আবাহনী), তকলিস আহমেদ (বিজেএমসি)। বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন ওকোমেরি, সনি নর্দে, ফেমি, আলী আব্দুল্লাহ, ওয়েডসন। কোচ যোসেফ আফুসি (নাইজেরিয়ান), মোশারফ বাদল (গোলকিপার কোচ), মহিদুর রহমান মিরাজ (সহকারী কোচ), আনোয়ারুল করিম হেলাল (ফুটবল ম্যানেজার)।
