তালা উপজেলা পরিষদ চত্বর ৩ মাস পানির নিচে

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৭
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পরিষদ ভবনের চারপাশ গত তিনমাস ধরে কপোতাক্ষের আটকেপড়া পানিতে ডুবে আছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে আসা লোকজন হাঁটু পানি মাড়িয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পরিষদের পুরোনো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের আশপাশের পানি অপসারণে নিজের অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা কৃষি অফিস, মত্স্য অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস,সমাজসেবা কার্যালয় ছাড়াও কয়েকটি কার্যালয়ের বারান্দায় হাঁটু পানি জমে আছে। পরিষদের এক কার্যালয় থেকে অপর কার্যালয়ে এমনকি এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যেতেও পানি পার হতে হচ্ছে। পরিষদ ভবনের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি কালো হয়ে গেছে। ছড়িয়েছে দুর্গন্ধ। রাস্তা ক্ষয়ে যাচ্ছে। পানিতে শেওলা। কচুরিপানা ভেসে এসেছে পরিষদ ভবনে। প্রতি বছরই কপোতাক্ষের পানি বেড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে উপজেলা পরিষদ ভবনটি ক্রমেই ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পরিষদ চত্বরের ভবনগুলোর মধ্যে অধিকাংশই পাকিস্তান আমলের। পানি জমে থাকার কারণে অনেক পুরোনো ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। পুরোনো ভবনে অফিস করা যাচ্ছে না বলে কয়েকটি কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে। কপোতাক্ষ মরে যাওয়ায় উপ-শহরের কয়েকটি স্থানেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কপোতাক্ষের সংযোগ খালগুলো একাধিকবার সংস্কার করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরিষদ ভবনের দুরবস্থার ব্যাপারে তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনত্ কুমার বলেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিষদের ভবন জলাবদ্ধতামুক্ত করতে কোনো বাজেট নেই। টেস্ট রিলিফ কিংবা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির বরাদ্দ আসে ইউনিয়ন পরিষদে। উপজেলা পরিষদের জন্য রাখার সুযোগ নেই।