এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০১
গত এক বছরে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১৩ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ৪২ শতাংশ ঋণই খেলাপি বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের ব্যাংকিং খাত পড়েছে মহাবিপাকে। আগে যেসব ঋণ বিতরণ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে বড় একটা অংশ আদায়ের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো নতুন করে ঋণও বিতরণ করতে পারছে না। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনুন্নত অবকাঠামো, আমদানি কম হওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ইত্যাদি কারণেই খেলাপি ঋণ আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশই খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকায়। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা বেশি। আর চলতি বছরের জুন প্রান্তিকের চেয়ে এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা বেশি। বর্তমানে দেশের সবগুলো ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪৪৩৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া বিষয়ে এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর চেয়ারম্যান ও বেসরকারি এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল আমীন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালার কারণে খেলাপি ঋণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আমদানি কম হওয়াসহ ঋণ খেলাপি হওয়ার জন্য যেসব কারণ রয়েছে সেগুলোর সবগুলোই এখন বিদ্যমান। এ অবস্থায় খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ও পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পর মুনাফা করাটা কতটা সম্ভব হবে সে বিষয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন নীতিমালার ফলে প্রথম দিকে ব্যাংকগুলো কিছুটা সমস্যায় পড়লেও পর্যায়ক্রমে তা কাটিয়ে উঠবে। একই সঙ্গে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও অনেকটা কমে আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত বছরের (২০১২) জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো ২৯ হাজার এক কোটি টাকা। যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ ছিল। তিন মাস আগে অর্থাত্ গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। যা ছিল মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা ২৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৪২ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের ২৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি হয়েছে চার হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা (১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ)। রূপালী ব্যাংকের ৯ হাজার ৯১৯ কোটি টাকার মধ্যে এক হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা (১৭ দশমিক ১১) এবং অগ্রণী ব্যাংকের ১৮ হাজার ৯২৮ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি হয়েছে পাঁচ হাজার ১১৯ কোটি টাকা (২৭ দশমিক ৫ শতাংশ)। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা (যা মোট ঋণের সাত দশমিক ৩০ শতাংশ), জুনে ছিলো ১৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা (ছয় দশমিক ৬২ শতাংশ)। বিশেষায়িত ব্যাংকে আট হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা (২৬ শতাংশ), জুনে ছিল সাত হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা (২৬ শতাংশ)। বিদেশি ব্যাংকে শ্রেণীকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা (ছয় দশমিক ০২ শতাংশ)। আর তিন মাস আগে এ পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮৮ কোটি টাকা (চার দশমিক ৬৬ শতাংশ)।