খুলনায় পর পর হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কগ্রস্ত নগরবাসী

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০২
একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে খুলনাবাসী। ১৫ দিনে নগরীর ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের পর জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মাদক বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা মোড়ে যুবলীগ কর্মী রেজওয়ান হোসেন সুমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। নিহতের মা নাজিয়া আক্তার ডলি নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার গোলাম মাওলা শানু, তার ভাই ছোটন, দুলু, লুলু, সৈকত, জাকারিয়া, ইমরান, জাহিদ, ফোরকান, জসিম, নূর আলম ও হালিম গাজী এবং অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় ও রাজনৈতিক বিরোধ উল্লেখ করা হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল মাদক বেচাকেনার অর্থ নিয়ে। সুমনের পিতা শেখ আব্দুল জলিল ও মা নাজিয়া বলেন, সুমনের সাথে কারো প্রকাশ্য কোন বিরোধ ছিল না। খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের কাপড়ের দোকানে সে চাকরি করতো। রাজনীতির সাথেও সে জড়িত ছিল না, তবে যুবলীগ করে এমন কয়েকজন বন্ধু ছিল তার। সোনাডাঙ্গা থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান জানান, পূর্বশত্রুতা এবং মাদক ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই সুমনকে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শহীদ ইকবাল বিথার হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং কেএমপি’র তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মাসুদ রানা ওরফে ট্যারা রানাকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। ১ নভেম্বর সোনাডাঙ্গা থানায় নিহতের মা আওয়ামী লীগ নেত্রী শাহানা বেগম শানু ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৯/১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর ময়লাপোঁতা মোড় থেকে এজাহারভুক্ত আসামি নিয়াজ মোর্শেদ নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুন্সী শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক বিক্রির অর্থের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মাদক বিক্রেতা প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা রানাকে হত্যা করে। নিহত মাসুদ রানা শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত ফেরদৌসুর রহমান হিরুর একান্ত সহযোগী ও শ্যালক। ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর ব্যস্ততম নিরালা মোড়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে রনি (২২) নামে এক যুবককে। উন্নত চিকিত্সার উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রনিকে হামলার সময় সাগর (২৫) নামে হামলাকারী গ্রুপের এক সন্ত্রাসীও আহত হয়। এ ঘটনায় নিহত রনির পিতা আব্দুর রহিম প্রতিপক্ষ গ্রুপের আরিফ, হাসান, রাজু, কুদরত, মিন্টু ও রাসেলের নাম উল্লেখসহ ১০/১২ জনের নামে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে হত্যা করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান বলেন, ‘পূর্বশত্রুতা ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রনির উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।