আজও তথ্য ও যোগাযোগ বিষয় থেকে প্রযুক্তি বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত থেকে আলোচনা করা হলো:
প্রশ্ন-৪.যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান আলোচনা কর।
উত্তর: বর্তমানে যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগ প্রযুক্তির ফলে সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ এবং আকাশপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুুক্তির ব্যবহার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সহজতর, দ্রুততর এবং লাভজনক। ফলে সময় ও শ্রমের অপচয় রোধ হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংরক্ষিত হচ্ছে। টেলিফোন, ফ্যাক্স, টেলিভিশন, টেলিপ্রিন্টার, কম্পিউটার, ই-মেইল ইত্যাদি যোগাযোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান যুগে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষণীয়। কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিচালিত ট্রাফিক লাইট সকল সড়কের সাথে সমন্বয় করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ডেটা কমিউনিকেশন বা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। কম্পিউটারের কল্যাণে ইন্টারনেট, ই-কমার্স ইত্যাদির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, টেলি কমিউনিকেশন, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ব্যবস্থায় কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে।
যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ : সড়ক পথে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, বিমান, নভোযান, নদীপথে জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণ, দিক নির্দেশনা ও অবস্থান নির্ণয়ে কম্পিউটার ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ : কম্পিউটার একটা শহরের কোন রাস্তায় কত গাড়ি চলাচল করছে, কত বেগে গাড়ি চলছে, প্রতি মুহূর্তে তা হিসাব করে সেভাবে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। এতে গাড়ি চলাচল দ্রুত হয়, ট্রাফিক জ্যামও কম হয়।
গাড়ি চালনায় : গাড়ি চালানোর ক্ষেত্র ছাড়াও বর্তমানে গাড়ি মনিটরিং ও নিরাপত্তার আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে এ কাজটি করছে। ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকিং ইউনিট একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করে যেকোনো চলমান যানবাহনের নির্ভুল অবস্থান, গতিবেগ, গতিপথ ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
এসব তথ্যগুলো একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ অথবা ইন্টানেটের সাহায্যে জানা যাবে। ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকিং ইউনিটের দুটি অংশ থাকে। সেগুলো হচ্ছে GPS (Global Positioning System) এবং GSM (Global System for Mobile Communications) এর মধ্যে এচঝ অংশ স্যাটেলাইট থেকে প্রতিনিয়ত তথ্য গ্রহণ করে সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে রিসিভারগুলোর তথ্য গ্রহণ ও তা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকারের মাধ্যমে যেসব বিষয় জানা যাচ্ছে সেগুলো হলো, গাড়ির বর্তমান অবস্থান, কোন রাস্তা দিয়ে চলছে, গাড়ির গতিবেগ কত, গাড়িটি কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় যাচ্ছে এবং গাড়িটি কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করছে। এছাড়াও প্রয়োজনে গাড়ির ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ ও চালুর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী রিপোর্ট প্রদান করে।
এয়ার লাইন ও রেলওয়ের টিকেট বুকিং : এয়ার লাইনের টিকেট বিক্রয়ের সঠিক নিয়ন্ত্রণ এখন সারা বিশ্বে কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এজন্য সকল টিকেট বুকিং স্টেশনকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে কোন যাত্রী যেকোনো স্টেশন থেকে টিকেট বুকিং করার পর এয়ার লাইনের সমস্ত বুকিং সেন্টারে সেই তথ্য চলে যাচ্ছে। তাছাড়া কোনো এয়ার লাইনের নির্ধারিত ফ্লাইটের আগমন ও উড্ডয়নের খবর বিমান বন্দরে পৌঁছার সাথে সাথে সকল বুকিং স্টেশনে সহজেই পৌঁছে যায়। বর্তমানে রেলওয়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালু আছে।
