ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ মানেই অনন্য কিছু। শিল্প তার মাত্রা ছাপিয়ে জীবনের সাথে মিশে যায় কখনো কখনো। ঠিক তেমনই কিছু অদ্ভুত সুন্দর শিল্প নিদর্শনের প্রদর্শনী চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার জয়নুল গ্যালারীতে। ১৪তম ব্যাচের এম. এফ. শেষবর্ষের ১৬ জন শিল্পী মিলে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ঘুরে আসে। আর সেখানকার সৌন্দর্য ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন এই শিল্পীরা। ১৬ জন শিল্পী ৪২টি শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত এই চিত্রকর্মে স্থান পেয়েছে এক্রেলিক, জলরঙ, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, কারুশিল্প, মৃিশল্প, পোস্টার ও আলোকচিত্র। জয়নুল গ্যালারী-১ এ গোট ১ নভেম্বর প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল বারক আলভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ. এম. আজাদ। এছাড়াও অনুষদের শিক্ষক ও শিল্পীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রদর্শনীতে। শিল্পীদের মধ্যে সিদরাতুল আফিয়া মোহনার কালার অফ মেমোরিস নামে চিত্রকর্ম বেশ নজর কেড়েছে। মোহনার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই শুধু সময়গুলো উপভোগ করতে এবং চারুকলা ছেড়ে যাবার সময় সবাইকে কিছু দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।
জলরঙে হুমায়রা আকতারের সানসেট-১ ও সানসেট-২ সবার কাছে ছিল প্রশংসনীয়। তাছাড়া নাজমা আক্তার ক্যালিগ্রাফিতে বেশ চমত্কারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মৌসুমি ভৌমিকের সেই বিখ্যাত গানের লাইন, আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো। সিরামিক আর্টিস্ট সাবিয়া ফেরদৌস পান্না ফ্যামিলি নামে অসাধারণভাবে সাগরপাড়ের প্রাণীদের জীবন উপস্থাপন করেছেন। সবার কাজের ভিত্তি ছিলো সাগর ও তার আশপাশের জীবন নিয়ে। মৌসুমী সুলতানার ক্রাফটে তিনি সাগরপাড়ের পেশাজীবী নারীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন। আরমান সরকারের লাইফ নামক কাঠের ভাস্কর্য সবার নজর কেড়েছে। আর আলোকচিত্রগুলো ছিলো অনবদ্য, যার মাঝে ছিল আইনুল হকের সারভাইভার-১ ও সারভাইভার-২। সবকিছুর মধ্যেই একটা বার্তা ছিল— সেন্ট মার্টিনকে বাঁচানোর আহ্বান। জলবায়ু ও নানা প্রাকৃতিক কারণে সেন্ট মার্টিন ও এর আশেপাশের অঞ্চলের প্রাণীজগত্ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই সবাইকে এগিয়ে এসে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্পটকে ধরে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পীরা।
