সাঁথিয়ায় নিষ্কাশন খালের প্রবাহে বাধা, ঝুঁকিতে কৃষক

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৭
পাবনার সাঁথিয়া-বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাগেশ্বরী-ডি-২ ক্যানাল কৈটলা পাম্প হাউজ হতে মুক্তার ধর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার ক্যানালের ১০টি স্থানে মাছ ধরার জন্য সুতিজাল দেয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। রবি মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ, মরিচ, রসুন, সরিষার আবাদ ব্যাহত হওয়ার শংকা রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর কৃষকরা আবেদন করলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জানা যায়, বেড়ার কৈটোলা পাম্প হাউজ হতে মুক্তরধর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি নিষ্কাশনের প্রায় ৩০ কিলোমিটার ক্যানাল রয়েছে। এ ক্যানাল দিয়ে বর্ষা শেষে ২০টি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও ক্যানালে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরার জন্য ১০টি স্থানে সুতি জালের সামগ্রিক প্রস্তুতি নেয়াসহ কয়েকটি স্থানে সুতিজাল পাতা হয়েছে। ফলে সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার প্রায় ২০টি বিলের (মুক্তরধর, সোনাইবিল, ঘুঘুদহ বিল, জামাইদহ, বড়গ্রাম বিল, খোলসাখালি বিল, আফড়া বিল) পানি বের হতে না পারায় লাখ লাখ টাকার ধান পানিতে নষ্ট হবে। সময়মত পানি না বের হওয়ায় সরিষা, পিঁয়াজের বীজতলা, পিঁয়াজ, রসুন, ধানের চারা, মরিচ ইত্যাদি ফসল যথাসময়ে বপন করতে না পারলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতিমধ্যে চলতি আমন মৌসুমে ৫০ ভাগ জমিতে ধান পাকা শেষ হয়েছে। ৪/৫ দিনের মধ্যে কৃষক ধান কাটতে শুরু করবে। জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় যথাসময়ে ধান কাটতে না পারলে পাকা ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া জমি থেকে পানি নিষ্কাশন না হলে পিঁয়াজ, মরিচ, সরিষাসহ রবি ফসলের আবাদ ব্যাহত হবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এলাকার অর্থকারী ফসল হিসাবে খ্যাত পিঁয়াজের চাষীরা। তারা নিজ জমিতে পিঁয়াজের বীজতলা তৈরি করতে পারবে না। আফড়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, আমরা ধান পেকে গেলেও পানির কারণে কাটতে পারছি না। কৃষকদের অভিযোগ, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ১ সপ্তাহ দেরিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইস গেটের মুখ খোলায় বিলগুলোর পানি নিষ্কাশন বিলম্বিত হয়েছে। পাউবো, বেড়া নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর সুতিজাল অপসারণপূর্বক পানি নিষ্কাশনের আবেদন করলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, শামুকজানী বাজারে আব্দুস সামাদ সরকারের বাড়ির নিকট রওশন সরদার, শামুকজানী ছানোয়ারের বাড়ির নিকট ছানোয়ার, দত্তপাড়া মুলারমার পুকুরের পাশে আব্দুল মালেক, বড়গ্রাম বড় পুকুরের পশ্চিম পাশে মন্টু হলদার ও বড়গ্রামে দেবেন হলদার, বড়গ্রাম ও সৈয়দপুর মৌজার পাশে বাচ্চু প্রামাণিক, তালপট্টি নামক স্থানে বাচ্চু প্রামাণিক, আমিনুল হকের পুকুরপাড়ে আবু হানিফসহ অনেকে সুতিজাল পাতে। তারা বলেন, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাবনা, রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে সুতিজালের বাঁধ তৈরি করেছি। সাঁথিয়া মত্স্য অফিসার শহীদুল ইসলাম জানান, মাছ আহরণে জালপাতা নিষেধ। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। সাঁথিয়া নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী কবিবুর রহমান বলেন, ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।