আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র কমিয়ে আনার চিন্তা-ভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যদিও এর আগে কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বিরোধী জোট নির্বাচনে অংশ না নিলে নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্র সংখ্যা কমাতে চায় ইসি। একইসঙ্গে সেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চিন্তা করা হচ্ছে।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে ভোট কেন্দ্র হবে ৪০ হাজারের মতো। আর বিরোধী জোট ছাড়া নির্বাচন হলে কেন্দ্র সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে আনার চিন্তা রয়েছে। দৃষ্টান্ত হিসাবে কর্মকর্তারা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০ নভেম্বরের পর এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমনটা ধরে নিয়েই সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেকটা চূড়ান্ত করেছে কমিশন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনকে উদাহরণ মেনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সেই সময়ে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জন করলে সংকটে পড়ে কমিশন। ওই নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ২৪ হাজার নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার সংকট দেখা দিলে কেন্দ্রের সংখ্যা ২১ হাজারে নামিয়ে আনা হয়। এবারও একই পরিস্থিতি হওয়ার আশংকা স্পষ্ট হওয়ায় ভোটকেন্দ্র কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
সর্বশেষ নবম সংসদে ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৫ হাজার ২৬৩টি (ভোটকক্ষ ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৭টি)। আর দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ২১ লাখ। ভোটার অনুপাতে এবার কেন্দ্র হওয়ার কথা ৪৪ হাজার ৭৯টি। কমিশনও সেই হিসাব করে রেখেছে। ইতিমধ্যে ৩৮ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করার কথা রয়েছে। তবে কমিশন মনে করছে বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হলে ওই কেন্দ্রের সংখ্যা সীমিত করা হবে। এই সংখ্যা ২০ হাজারের মতো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্র কমানোর কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একতরফা নির্বাচন হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। একতরফা নির্বাচন করার বিষয়ে কমিশনের মাঠ কর্মকর্তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে ভোট বর্জনকারীদের হাতে মাঠ কর্মকর্তাদের নাজেহাল হতে হয়েছিল। এবারও তারা সেই আশঙ্কা করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা চায় ইসি
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আবেদন করবে কমিশন। তবে তফসিল ঘোষণার পর কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে অনুরোধ করবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, আরপিও অনুসারে আইন-শৃঙ্খলায় যেসব বাহিনী থাকবে তাদের নিয়োজিত রাখা হবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনী অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এবার রাষ্ট্রপতির কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আবেদন জানাব। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ অনুরোধ জানানো হবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭৩ এর অধ্যায় ৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সেনাবাহিনী মোতায়ন করার আবেদন করা হবে।
খালি আকাশের নিচে ব্যালট বক্স
নির্বাচনের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় উপকরণ আসতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনে। গত বৃস্পতিবার রাতে ঢাকা অঞ্চলের জন্য ১৩ হাজার ৬৬০টি ব্যালট বক্স নির্বাচন কমিশিনে এসে পৌঁছেছে। ইসির গোডাউনের সমস্যা থাকায় সচিবালয়ের খালি জায়গায় খোলা আকাশের নিচে সেগুলো রাখা হয়েছে। সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন করে ৪০ হাজার ব্যালট বক্স সংগ্রহ করা হয়েছে। আর ঢাকা অঞ্চলের জন্য ১৩ হাজার ৩৬০টি ব্যালট বক্স ইসিতে রয়েছে।
