জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৬
চারু ও কারুকলা মাঈনউদ্দীন আহমেদ মাহি শিক্ষক ,চারু ও কারুকলা, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ মোমেনশাহী প্রশ্ন: মাটি খুঁড়ে কোন ৩টি স্থান বা জনপথ আবিষ্কৃত হয়েছে? ১টির বিবরণ দাও। উত্তর:বাংলাদেশের মাটির স্তূপ বা গড় অঞ্চল খনন করে তিনটি জনপথের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এ জনপথগুলো হলো— ১. রাজশাহীর পাহাড়পুর অঞ্চল ২. কুমিল্লার ময়নামতি অঞ্চল ৩. বগুড়ার মহাস্থানগড়। কুমিল্লার ময়নামতির বর্ণনা নিম্নরূপ: বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে ময়নামতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কুমিল্লা জেলার প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। লালমাই ময়নামতির ছোট পাহাড়গুলোর উচ্চতা গড়ে ৫০ ফুট। কিন্তু কোনটি আবার ১০০ ফুট বা তার চেয়েও বেশি উঁচু। নিকটস্থ ময়নামতি নামে একটি গ্রামের অস্তিত্বের কারণে এ পাহাড়শ্রেণির উত্তর অংশের নাম ময়নামতি। চন্দ্ররাজার স্ত্রী রানী ময়নামতির নামানুসারে এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে ময়নামতি। লালমাই ময়নামতি অঞ্চল খননকালে বহু স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়। শালবন বিহারের একটি কক্ষে প্রথম যুগে মেঝে বা মাটির নিচে লুক্বায়িত তিনটি মাটির সঞ্চয়পত্রে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার মোট ২২৭টি মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়। ময়নামতির প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্য প্রমাণের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, খ্রিষ্টীয় ১৩শ’ শতাব্দীর প্রারম্ভে মুসলমান আগমনের পূর্বপর্যন্ত সমস্ত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ময়নামতি অঞ্চলে একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল। খ্রিষ্টীয় ১১ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে চন্দ্ররাজারা হিন্দু বংশীয় বর্মনদের দ্বারা পরাভূত হন। তাই এই সময়ে কুমিল্লার ময়নামতি অঞ্চলের ইতিহাস অত্যন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন। প্রশ্ন: পোড়ামাটির ফলক ও শিলালিপি কেন প্রাচীন শিল্পকর্ম হিসেবে টিকে আছে। এগুলো কোন কোন জায়গায় সংরক্ষিত আছে? বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন শিল্পকলা ও স্থাপত্যকলা সম্পর্কে লিখ। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের বেশির ভাগ অঞ্চল পলিমাটির অঞ্চল নরম মাটি ও জলাভূমি। ছোট-বড় অসংখ্য নদী ও খাল দ্বারা বেষ্টিত। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবসময় যেন লেগে আছে। খ্রিস্টের জন্মের আগে থেকেই এই বাংলার মানুষজনের মহর ও বাড়িঘর ইটের দেয়াল, পাথরের খিলান অর্থাত্ শক্ত করে তৈরি হতো। বেশিরভাগ বাড়ি-ঘরই ছিল ছনের, মাটির, বাঁশের ও খড়ের। ফলে ঝড়-ঝঞ্ঝা-ভূমিকম্পের কারণে এসব বাড়ি-ঘর ও দালান মাটিচাপা পড়ে যেত। বাংলাদেশের মাটির স্তূপ ও গড় অঞ্চল খনন করে আবিষ্কৃত হয় পাহাড়পুর, ময়নামতি ও মহাস্থানগড়ের জনপদ। দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকায় অনেককিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। চিত্রকলা ও নরম উপাদানে তৈরি কোনো শিল্পকর্ম মাটির নিচে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। তাই রক্ষা পেয়েছে কেবল পোড়ামাটির ফলক ও শিলালিপি যা বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষা করে। বর্তমানে এইসব রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর, বগুড়ার মহাস্থানগড়, কুমিল্লার ময়নামতি, রাজশাহীর পাহাড়পুর জাদুঘরসহ ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে সঠিকভাবে কিছু বলা মুশকিল। কারণ অষ্টম শতাব্দী পূর্বেকার কোনো শিল্পকর্মে নিদর্শন পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গেছে পালযুগে ভাস্কর্য ও চিত্রকলায়। অষ্টম শতাব্দীর মধ্যভাগে পাল সাম্রাজ্যের পতন হয়। একক ও বিশাল সাম্রাজ্যের অধীনে গুপ্তরীতির আঙ্গিকে এসময়ে শিল্পকলা গড়ে ওঠে সর্বভারতীয় মার্গরীতি অনুসারে। অবশ্য দশম শতাব্দীর আগেকার শিল্পের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক কারণে এগুলোর অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে বলে পণ্ডিতদের ধারণা। তবে পাথরের তৈরি ভাস্কর্যগুলো আবহাওয়াগত কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নি। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক বা স্থাপত্যকলার নিদর্শনাদির মধ্যে ময়নামতি, বড়কাটরা, ছোটকাটরা, লালবাগের দুর্গ, বিনতবিবির মসজিদ, খান মোহাম্মদ মৃধার মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, তারা মসজিদ, আহসান মঞ্জিল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ দুর্গ, সোনাকান্দা দুর্গ, মুন্সীগঞ্জের ইন্দ্রাকপুর দুর্গ, পাবনার জোড়বাংলা মন্দির, ফরিদপুরের মথুরাপুর দেউল, জোড়বাংলা মন্দির, ময়মনসিংহ এগারোসিন্ধু সাদী মসজিদ, শাহ মুহম্মদ মসজিদ, সিলেট শাহজালালের মাজার, শাহপরানের মাজার, জমন্তীয়াপুর মেগালিথ পাথর, কুমিল্লার সতেরো রত্ন মন্দির, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামির মাজার, পাহাড়পুর, বগুড়ার মহাস্থানগড় উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রাজশাহীর ছোটসোনা মসজিদ, বাঘা মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ, পুটিয়ার রাজবাড়ীর মন্দির, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহানের প্রাচীন স্থাপত্যকলার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। পরিশেষে বলা যায়, উপমহাদেশে শিল্পকলা ও স্থাপত্যকলায় বাংলা এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে।