পেঁপে খেয়ে উপকার, চাষেও লাভ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৫৯
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে। পুষ্টি ও ঔষধি গুণে ভরা সবজি পেঁপে চাষ করে এলাকার অনেক বেকার যুবক আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় এলাকায় পেঁপে চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। পেঁপে চাষে সফলতার কারণে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে শখ করে বাড়ির আঙ্গিনাতেও পেঁপে চাষ করছেন। উপজেলার সোনাকানিয়া, ছদাহা, খাগরিয়া, চরতিসহ অনেক এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে পেঁপে চাষ। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা- উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে বেকার যুব সমাজের জন্য পেঁপে চাষের উপর প্রশিক্ষণ ও এজন্য স্বল্প পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে এলাকার শত শত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে খাওয়া যায় বলে এর গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। প্রবাদ আছে- প্রতিদিন একটি করে পেঁপে খেলে আর চিকিত্সকের দ্বারস্থ হতে হয় না। পেঁপে নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হূদরোগ, কোষ্ঠ-কাঠিন্যসহ নানা জটিল রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাছাড়া পেঁপে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছোট হাতিয়া এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করেছেন কৃষক নূরুল আলম। তিনি জানান, ৫ মাস আগে তার বাগানে তিনি একশটি পেঁপে চারা রোপণ করেছেন। এখন প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি পেঁপে ধরেছে। প্রতিটি পেঁপের ওজন ২-৩ কেজি। প্রতি কেজি পেঁপে ২৫ টাকায় অনায়াসে বিক্রি করা যায়। নূরুল আলম জানান, ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তিনি পেঁপে চাষ শুরু করেন। ক্ষেতের সমস্ত পেঁপে বিক্রি করতে পারলে তার লক্ষাধিক টাকা আয় হবে। চাকরি অথবা ব্যবসার পাশাপাশি বাড়িতে যে কেউ পেঁপে চাষ করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। নূরুল আলমের সাফল্য দেখে পেঁপে চাষে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের আব্দুল জলিল, মাস্টার এরশাদ, মহরম আলী, মো. সোলেমানসহ আরো অনেকে।