পার্বত্য ভূমি সমস্যার সমাধান করা হবে

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩১
খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী-বাঙালি সকল জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ কাজ করছে। পাহাড়ের মানুষের অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর যে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭৭টি শর্তের মধ্যে ৫৫টি শর্ত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে কার্যকর করারও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনের মাধ্যমে চিরদিনের জন্য পাহাড়ের ভূমি সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে হাই স্কুল সরকারিকরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উত্তোলিত গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার্বত্য জেলার মানুষের প্রয়োজনে কাজে লাগাবার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ২৩ মিনিটের ভাষণে অপার সম্ভাবনাময় পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যও বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র, বৃহত্ ও মাঝারি শিল্পের কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্মৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করার ঘোষণা দেন। জলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এমপি, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার এমপি, ফটিকছড়ির এমপি পেয়ারুল ইসলাম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা যথাক্রমে এস এম শফি, অ্যাডভোকেট জ্ঞানরঞ্জন চাকমা, অ্যাডভোকেট হেমন্ত ত্রিপুরা, শাহীনা আক্তার, যতন কুমার ত্রিপুরা, দিদারুল আলম, ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাজাই মার্মা, রতন শীল, তাপস ত্রিপুরা, কামাল পাটোয়ারী, আবুল কাসেম ও মেমং মার্মা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার প্রধানমন্ত্রিত্বের দরকার নেই, আমি এদেশের মানুষের উন্নতি সাধন করার জন্যই রাজনীতি করছি। সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩শ ২০ কোটি টাকার ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধনকৃত প্রকল্পগুলো হলো যথাক্রমে- রামগড় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, আবহাওয়া অফিস, আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন, মহালছড়ি স্কুলের একাডেমিক ভবন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টার-কাম-প্রশিক্ষণ কেন্দ , খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স স্কুল ভবন, পানখাইয়া পাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদের ছাত্রাবাস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ব্যারাক ভবন, ১ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম ও ভাইবোনছাড়া ব্রিজ। এছাড়া গ্রীড সাব-স্টেশন, দীঘিনালার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, তাইন্দং আশ্রয়ণ প্রকল্প, শান্তি স্তম্ভ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।