সময় যতই পার হচ্ছে ফিলিপাইনে প্রলয়ংঙ্করী ঘুর্ণিঝড়ের দানবীয় রূপ ততই প্রকাশ পাচ্ছে। ধীরে ধীরে পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলিতে প্রবেশ করে যে দৃশ্য দেখছে তাতে তারা বিস্ময়ে হতবাক। বিশাল বিশাল গাছপালা ও বড় বড় পাকা বাড়ি উপড়ে ফেলা ছাড়াও এই ঘুর্ণিঝড়ের এতই শক্তি ছিল যে তা সাগর থেকে বেশ কয়েকটি জাহাজ তুলে লোকালয়ে আছড়ে ফেলেছে! বিশাল বিশাল জাহাজগুলির কোনো কোনোটি উঠে পড়েছে বাড়িঘরের উপর। আর ছোট ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ফেলেছে কয়েক কিলোমিটার দূরে। টাইফুনটি যেসব স্থানের ওপর দিয়ে গেছে, তার ৮০ শতাংশ স্থাপনা ও অবকাঠামো ধবংস হয়ে গেছে।
এদিকে, টাইফুনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিপাইনের ক্ষুধার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছাতে উদ্ধার কর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ১০ হাজারের বেশি লোক মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাস্তুচ্যূত ও ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে ত্রাণ সরবরাহকারী দলের সদস্যরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝড়ের আঘাতে বিধ্বস্ত ফিলিপাইনের লেইতি প্রদেশের রাজধানী তাকলোবানে লুটপাট ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কয়েকশ পুলিশ ও সৈন্য মোতায়েন করেছে। এত ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা টেলিভিশনের মতো দামি জিনিষপত্র লুট করছে। অপরদিকে, তাকলোবান বিমানবন্দরে ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এদের কেউ কেউ খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের আশায় কাদা ও ধবংসস্তুপের মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে।
