মজুরি বোর্ড ঘোষিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সংঘর্ষ চলার সময় সাভারে অর্ধশত, ফতুল্লায় ১২টি ও কালিয়াকৈরে চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আশুলিয়ায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ অন্য সড়কগুলোতে বিজিবি টহল দিতে শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মজুরি বোর্ডের ঘোষিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সাভার, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছিল। গতকাল সোমবার সকালে আশুলিয়ার জিরাবো, জামগড়া, সরকার মার্কেট, কাঠগড়া এলাকার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে। বিক্ষোভ শেষে তারা ভাংচুর শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের ডিএডি আঃ ছাত্তার জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নাশকতা করতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।
আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের কারণে গতকাল ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় কিছু গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা কাজ ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। তারা রাস্তায় বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় আরো কিছু কারখানার শ্রমিকদের বাইরে আনার চেষ্টা করা হয়। কিছু কারখানায় ভাংচুরেরও চেষ্টা চলে।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার চারটি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ চলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঐ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
