জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, শান্তি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। অতীতে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজনীতি অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা ভূমিকা পালন করেছি, আগামীতে একই ধরনের ভূমিকা রাখবো। গতকাল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের সঙ্গে জেপি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি) অংশগ্রহণ করবে। কারণ নির্বাচন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালেও আমরা সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলাম। অতীতে বিএনপি এবং এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাপা যখন সংসদ বর্জন করেছিল, তখন আমরা সংসদে ছিলাম। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র থাকে। ১৪ দলের সঙ্গে হয়তো এক জায়গায় আমরা একমত হয়েছি; আর সেটা হলো সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
সর্বদলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে না আসলে জেপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে আসা না আসা যে কারো গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি তো আগেও নির্বাচন করেছি, আমি জানি কীভাবে নির্বাচন করতে হয়। উনি করলে আমি করব কি না, সে করলে আমি করব কি না, সেসব কোনো প্রশ্ন নয়। কেউ না আসলে অংশ নেবো না আমরা এতো অসহায়ও নই। নির্বাচনে যারা আসতে চাইবেন, আসবেন, না চাইলে আসবেন না। সাংবিধানিক ধারা তো আর পরিবর্তন করা যাবে না।
সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পক্ষে। দেশের সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্রের পথকে আরও সুগম করতে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গাড়ি পুড়িয়ে, মানুষ হত্যা করে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করা যাবে না। যতই চক্রান্ত হোক নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচন হতেই হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া হরতালের নামে এক যন্ত্রণাদায়ক অস্ত্র ব্যবহার করে ছোট ছোট শিশুদের জীবন নষ্ট করছে। দেশের সরকারি বেসরকারি সম্পদ নষ্ট করছেন। তবে আমরা এখনো আশা করি বিএনপি সংলাপে আসবে এবং তাদের দাবি-দাওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সময়ে সর্বদলীয় সরকার হবে। এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা চাই সকলের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সময় মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কেউ যদি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাহলে তাদেরকে গণতান্ত্রিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে। এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এ জন্য তার দল নির্বাচনে অংশ নেবে।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম, মফিজুল হক বেবু, মিসেস আমেনা বারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য শিরিন আক্তার, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালেদ মাহমুদ চৌধুুরী, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক অসিত বরণ রায়, ন্যাপের নেতা ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
