১৮ দলীয় হরতালের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে এবার ঝলসে গেল এক দম্পতি ও দুই দিনমজুরের শরীর। গতকাল সোমবার দুপুরে হাজারীবাগে বিজিবি ২ নম্বর গেটের অদূরে একটি পিকআপ ভ্যান কয়েক তরুণ থামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পিকআপের হেলপার মো. সুমনের (১৮) শরীরের অনেকখানি ঝলসে যায়। আগুনে পিকআপের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পিকআপ থেকে চালকসহ যাত্রীরা দ্রুত নিরাপদে বের হতে পারলেও সুমন বের হতে পারেনি। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সুমন লক্ষ্মীপুর জেলার চর জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা বাজার আলীর ছেলে।
সুমন জানায়, তারা ২ ভাই ও ২ বোন। সে সবার বড়। তার বাবা কৃষক। তার আয়ের ওপর সংসার চলে।
গত রবিবার রাতে মিরপুর পল্লবী কালসী এলাকায় একটি বাসে কয়েকজন তরুণ পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। মুহূর্তে বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাস চালক, হেলপার ও অন্যান্য যাত্রীরা বের হতে পারলেও যাত্রী সাগর মাহমুদ (২২) আটকা পড়েন। আগুনে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায়। সাগর মাহমুদ গোপালগঞ্জ কোটালিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা আসাদুজ্জামানের পুত্র। গার্মেন্টসে পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন সাগর। তার বাবাও একজন কৃষক। ২ ভাই ও ২ বোনের সংসার তার আয়ের উপর নির্ভরশীল।
এদিকে উত্তরায় পিকেটারদের ছোঁড়া ককটেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এক দম্পতি। স্বামী আহসান সামান্য আহত হলেও স্ত্রী আফরোজার মুখের ডানদিক ঝলসে গেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরার তিন নাম্বার সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে। আহসান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাসকাট প্লাজার সামনে তারা এক বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পিকেটাররা তাদের দিকে ৪টি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে তার দুই হাত ও বুকের দিকে ঝলসে যায়। এছাড়া তার স্ত্রীর গলার কিছু অংশ ও মুখের ডানদিক ঝলসে যায়। তাদের দু’জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহসান একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে ও তার স্ত্রী একটি বায়িং হাউজে চাকরি করেন।
