নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশে নির্বাচন: গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের সাতটি দেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কোনো বিচার হয় না। তাদের ওপর নির্যাতন করে যে কেউই পার পেয়ে যায়।
সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং মন্দির ভাঙার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচনের আগে বা পরে বা অন্য যে কোনো ইস্যুতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সেমিনারে ওয়াশিংটনভিত্তিক হিন্দু আমেরিকানদের সংগঠন হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের (হাফ) প্রতিনিধি জে. কানসারা জানান, ‘বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের বিষয়ে আগামী ২০ নভেম্বর হোয়াইট হাউজের ফরেন রিলেশনস কমিটির এশিয়া বিভাগে একটি শুনানি হবে। তিনি এই শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় সময় রবিবার বিকালে নিউইয়র্কের সানিসাইডের একটি কমিউনিটি হলে স্থানীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে আরো অংশ নেন নিউইয়র্কের লেখক ও সাংবাদিক মেডেলিন ব্রুকস, সুইডিশ মডারেট পার্টির রাজনৈতিক মানবাধিকার কর্মী মেরী স্পিনারে, নেদারল্যান্ডের মানবাধিকার কর্মী জেনি ল্যান্ডস্ট্রম, যুক্তরাজ্যের ইউরোপ হিন্দু ফোরামের সভাপতি ভারতী টেইলার, বাংলাদেশের রোজালিন কস্টা, জাস্টিস ফর হিন্দুস নেতা ভিনসেন্ট ব্রুনো, ভারতের যাদবপুর বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোহিত রায়, তরুণ চৌধুরী ও চিত্রা পাল, সরোজ দাশ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নবেন্দু দত্ত। সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন প্রদীপ দাশ। সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার নেতা রতন বড়ুয়া।
সেমিনারে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করেন সাংবাদিক শিতাংশু গুহ। সেমিনারের শুরুতে লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আলটিমেট জ্বিহাদ’ প্রদর্শন করা হয়। তারপর একের পর এক বক্তা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। ঐক্য পরিষদ একটি স্লাইড শো-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে। শিতাংশু গুহ নির্মিত এই স্লাইড শো দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।
সেমিনারে নেদারল্যান্ডের মানবাধিকার কর্মী জেনি ল্যান্ডস্ট্রম ‘কালচার অব ইম্পিউনিটি’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন। সেমিনারে তিনি রামুর ঘটনার পর তার বাংলাদেশ সফর ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তা দাবি করেন, সম্প্রতি পাবনার সাঁথিয়ার ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত সবাই জড়িত। হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে কারো হাতই পরিষ্কার নয়। তারা বলেন, আমরা ব্লেমগেম চাই না। এসব সমস্যার সমাধান চাই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত সবাই বলুক তারা সংখ্যালঘুদের জন্যে কী করবেন।
সেমিনার শেষে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানবাধিকার নেতা রতন বড়ুয়ার সম্মানে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।
