ভারতের ছত্তিশগড়ের মাওবাদী প্রভাবিত ১৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে গতকাল সোমবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। একাধিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে মাওবাদিরা। এতে একজন জনওয়ান নিহত হয়েছে। অপরদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা সৃষ্টি হওয়া কেন্দ্রগুলিতে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হতে পারে।
এদিকে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ব্যালটে না ভোটের পক্ষে রায় দেয়ার পর গতকালই প্রথমবার তার প্রয়োগ হয়। ব্যালট পেপারে সব প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ‘উপরের কাউকে না’ অপশন ছিল। ভোটাররা বলছে এর মাধ্যমে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নতুন এক মাত্রা পেল।
মাওবাদি হামলা :জানা গেছে, মাওবাদি বিদ্রোহীরা বিধানসভা নির্বাচনে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিল আগেই। হামলা ঠেকানোর জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বিধান করেছিল সরকার। কিন্তু তারপরেও রাজ্যের দান্ডেওয়াড়ার একটি কেন্দ্রে মাওবাদি বিদ্রোহীরা ঝটিকা আক্রমণ চালায়। তারা মুহুর্মৃহু গুলিবর্ষণ এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ও সিআরপিএফ জওয়ানরা পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এতে ১৮৬ ব্যাটেলিয়নের জোসেফ নামে একজন জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। হুড়োহুড়ি করে সবাই পালিয়ে যায়। বিদ্রোহীরা চলে যাবার সময় রাজনন্দগাঁওয়ে একটি সেতু বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। বিজাপুরে একটি বুথের সামনে ১০ কেজি ওজনের পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।
প্রথম না ভোট : শীর্ষ আদালতের দেওয়া সেই অধিকার প্রথমবার প্রয়োগ করছে ছত্তিশগড়ের মানুষ। রায় কার্যকর করতে ইভিএম-এ ছিল বিশেষ নোটা বোতাম। এই বোতাম চেপে সব প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করা যায়। ছত্তিশগড়ের সাড়ে ২৯ লক্ষ ভোটার গতকাল ভোট দেয়। তাদের ‘না’ ভোটের সুযোগ দিতে ইভিএম মেশিনগুলে নতুন করে তৈরী করতে হয়। ভোটারদের নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচয় করাতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
