কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৫৫
শরতকে ঋতুর রানি বলা হলেও হেমন্ত কম যায় না। এই সময় প্রকৃতি খুব সুন্দর হয়। মাঠের পর মাঠ শুধু সোনালি ধান আর ধান। জ্যোত্স্না রাতে মনে হয়, ধানকন্যেরা হেলে-দুলে নেচে বেড়ায়। এ সুন্দর দৃশ্য না দেখলে বোঝা যায় না। কৃষকের মন খুশিতে ভরে ওঠে। ছোট্ট মেয়েটি যার নাম সোনাই, তার টুকটুকে লাল জামা চাই। ছেলেটির চাই চেকশার্ট, স্কুলব্যাগ, জুতা, বাচ্চারা অনেকদিন মামাবাড়ি যায়নি। ওদের নিয়ে বেড়াতে যেতে হবে। দেখাতে হবে পদ্মানদী, সূর্যডোবা। তাদের গ্রামটি পদ্মা নদীর কাছে, নাম আজিমনগর। পাশে প্রাইমারী স্কুল, বাজার, খেলার মাঠ, বাবার মৃত্যুতে পড়া এগায়নি। পরে গ্রামের রোশনা আপু অনেকের সাথে কিছুদিন পড়িয়েছেন। বিকালে বন্ধুদের নিয়ে মজার একট খেলা ছিল, সূর্য ডোবা দেখা। পশ্চিম দিকে হেলে পড়া বড় লাল গোলাকার সূর্য। হঠাত্ করেই পদ্মার ওপারে কোথায় যে উবে যেত। সে দৃশ্য ভোলার না। কাস্তের খচাখচ ধান কাটার শব্দে কৃষক বাস্তবে ফিরে আসে। অনেক ধান কাটা হয়েছে। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা, বড় এক বোঝা ধান মাথায় নিয়ে সে বাড়ির দিকে পথ দেয়। মাথার দু’পাশে ঝুলে থাকা সোনালি ধানের ছড়া, ধানকন্যেরা। কৃষকের চোখে স্বপ্ন। সে দেখতে পায়, বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে। গায়ে জামা, কাঁধে ব্যাগ, মুখে হাসি। কৃষক, যার নাম দেয়া হয়নি, ভেবে নিও তার নাম লোকমান, শহীদ, হাসু ভাই। যারা গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে আছে। শারতাজ এফ রহমান সদস্য নম্বর ৭৬৯ সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ।