এইচএসসি ২০১৪
গতকালের পর
উদ্দীপকের প্রশ্নের ক অংশ অর্থাত্ জ্ঞান স্তর:- জ্ঞান স্তর হলো তোমাদের পড়া বা তোমাদের জানা কোন কিছু স্মরণ করা। অর্থাত্ তোমরা পূর্বে পড়েছ বা পূর্বে জেনেছ এমন কিছুর সংজ্ঞা, নাম, তত্ত্ব, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, ধারণা বা নীতিমালা স্মরণ করা বা চিনতে পারা বা শনাক্ত করা। ক অংশের প্রশ্নটি সাধারণত কে বা কি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
উপরের উদ্দীপকে ক অংশে অংশীদারী ব্যবসায় কি? অর্থাত্ প্রশ্নটি কি দিয়ে করা হয়েছে। কি জাতীয় হলে সংজ্ঞার আলোকে উত্তর দিতে হয়। মানে সরাসরি অংশীদারী ব্যবসায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দিতে হয়। এক্ষেত্রে সাধারণ অর্থে, ব্যাপক অর্থে, মনীষীর সংজ্ঞা বা কোনরকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেয়ার প্রয়োজন নাই। অর্থাত্ জ্ঞান স্তরের প্রশ্নের উত্তর বা কি দিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর পাঠ্যপুস্তকের আলোকে সরাসরি দিতে হবে। আর কে দিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাধারণত এক কথায় উত্তর দিতে হয়। অর্থাত্ ক অংশের প্রশ্নটি যদি এমন হতো ব্যবস্থাপনার জনক কে? তাহলে শুধুমাত্র জনকের নাম লিখতে হবে। এই অংশে খুব সহজেই এক নম্বরে এক পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্নের খ অংশ অনুধাবন স্তর:এই স্তর হলো কোন কিছু বুঝতে পারা বা কোন বিষয়ের অর্থ বুঝার ক্ষমতা। হতে পারে এটি তথ্য, নীতিমালা, সূত্র, নিয়ম, পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া। কোন বিষয় বুঝতে হলে প্রথমে সেই বিষয়কে স্মরণ করতে হবে। এর থেকে বোঝা যায় যে, কোন বিষয় বুঝতে হলে সেই বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা চাই। তাই আমরা বলতে পারি অনুধাবন স্তরের ২টি অংশ, যার একটি হলো জ্ঞান স্তর, দ্বিতীয়টি হলো অনুধাবন স্তর।
উপরের উদ্দীপকের খ অংশের প্রশ্নটি অনুধাবন স্তর। অর্থাত্ অংশীদারী ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র বলতে কি বুঝায়? এই প্রশ্নের উত্তর লিখতে হলে প্রথমে জানতে হবে অংশীদারী চুক্তিপত্র কি? এই জানার অংশটি জ্ঞান স্তর। আর এই জ্ঞানের আলোকে যে ব্যাখ্যা দিতে হবে সেটি অনুধাবন স্তর। অর্থাত্ জ্ঞান স্তরের তুলনায় অনুধাবন স্তরে অধিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়। তাহলে বুঝতে পারলাম অনুধাবন স্তরের প্রশ্নের ভিতর জ্ঞানমূলক প্রশ্ন জড়িত। এখানে ২টি অংশের জন্য ২ নম্বর। তাই দুইটি প্যারা আলাদা আলাদা করে লেখাই উত্তম। এক্ষেত্রে ২ নম্বরে ২ পাওয়া সম্ভব।
উদ্দীপকের প্রশ্নের গ অংশ প্রয়োগ স্তর: প্রয়োগ স্তর বলতে নতুন নতুন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের ক্ষমতাকে বুঝায়। সেটি হতে পারে আইন, বিধি, তত্ত্ব, সূত্র, নিয়ম, পদ্ধতি, ধারণা, নীতি ইত্যাদি। কোন বিষয়ের ব্যবহারের ক্ষমতা জানতে হলে সেই বিষয়টি আগে অনুধাবন করতে হবে। আর অনুধাবন বুঝতে হলে সেই বিষয়টি আগে স্মরণ করতে হবে। এর থেকে বুঝা যায় যে, প্রয়োগ স্তরের ভিতর অনুধাবন ও জ্ঞান স্তর জড়িত।
উপরের উদ্দীপকে গ অংশের প্রশ্নটি প্রয়োগ স্তর। অর্থাত্ জনাব সিয়াম কোন ধরনের অংশীদার? উদ্দীপকের আলোকে জনাব সিয়াম সীমিত অংশীদার। এটি হলো জ্ঞান স্তর। আর সীমিত অংশীদার বলতে কি বুঝায় এটি অনুধাবন স্তর। আর কোন নিয়ম, নীতি, তত্ত্ব বা ধারণার প্রয়োগ করে বা পূর্বের শেখা কোন পরিস্থিতি ব্যবহার করে বুঝা গেল যে, এটি সীমিত অংশীদার উদ্দীপকের আলোকে তার একটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দিতে হবে। এটি হবে প্রয়োগ স্তর। অর্থাত্ প্রয়োগ স্তরে অনুধাবন স্তর ও জ্ঞান স্তর জড়িত। তার মানে বুঝা গেল প্রয়োগ স্তরে ৩টি প্যারা বা অংশ হবে।
উদ্দীপকের ঘ অংশ উচ্চতর চিন্তন দক্ষতা স্তর:উচ্চতর চিন্তন দক্ষতা বলতে বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ এবং মূল্যায়নকে বুঝায়। অর্থাত্ পূর্বের জানা তথ্য ব্যবহার করে নতুন কোন পরিস্থিতিতে বিচার- বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার এবং মূল্যায়নের দক্ষতাই হলো উচ্চতর চিন্তন দক্ষতা। কোন ঘটনার বিচার-বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করতে হলে অর্থাত্ উচ্চতর দক্ষতা জানতে হলে সেই ঘটনার বাস্তব প্রয়োগ বা প্রয়োগ স্তর জানতে হবে। আর প্রয়োগ জানতে হলে উক্ত ঘটনার অনুধাবন করতেই হবে বা অনুধাবন স্তর জানতে হবে। আর ঘটনার অনুধাবন বুঝতে হলে উক্ত ঘটনা স্মরণ বা মনে করতে হবে। অর্থাত্ জ্ঞান স্তর জানতে হবে।
উপরের উদ্দীপকে ঘ অংশ উচ্চতর চিন্তন দক্ষতার স্তর। অর্থাত্ জনাব ফাহাদের গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার কোন ধরনের যৌক্তিকতা আছে বলে তুমি মনে কর? উদ্দীপকের আলোকে জনাব ফাহাদ আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার। আর আপাতদৃষ্টিতে অংশীদারের ক্ষেত্রে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে। তাহলে এটি হলো জ্ঞান স্তর। আর আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার বলতে কি বুঝায় এটি হলো অনুধাবন স্তর। আর উদ্দীপকের কোন কোন তথ্য-উপাত্তের আলোকে বুঝা গেল, যেটি আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার সেটি হলো প্রয়োগ স্তর। আর যৌক্তিকতা বা মতামত জানাতে হলে সেই ঘটনার বিচার-বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। আর এই মূল্যায়ন করা হলো উচ্চতর চিন্তন দক্ষতার স্তর। অর্থাত্ উচ্চতর চিন্তন দক্ষতা স্তরে মূল্যায়ন করতে হলে এর প্রয়োগ জানতে হবে, প্রয়োগ জানতে হলে অনুধাবন বুঝতে হবে আর অনুধাবন বুঝতে হলে জ্ঞান স্তর জানতে হবে। তার মানে উচ্চতর চিন্তন দক্ষতা স্তর বুঝতে হলে অন্য তিনটি স্তর জানতে হবে। এর থেকে বুঝা গেল, এই স্তরে ৪টি অংশ থাকে। এই ৪টি অংশের জন্য ৪ নম্বর। তবে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তর আলাদা করা একটু কঠিন মনে হলে এই ২টি স্তর একত্রে লেখলেও চলবে।
উপরের-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের আলোকে তোমাদের উদ্দেশ্য করে একটি কথা বলতে চাই—সৃজনশীল পদ্ধতি একটি উন্নত পদ্ধতি বিশেষ। তাই এই পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ থাকা চাই। আর এজন্য তোমাদের কোন সাজেশন অনুসরণ করার দরকার হবে না। পাঠ্যপুস্তকটি ভালোভাবে পড়লেই চলবে।
লেখক:
মো. কবির হোসেন (সুজন)
প্রভাষক,ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা
