গল্প নয় সত্যি

অটোগ্রাফ নিতে গিয়ে বিপত্তি!

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৪
নর্থ লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তা ধরে ছুটে চলেছে একটি গাড়ি। গাড়িতে বসে থাকা মানুষটিও নেহাত সাদাসিধে কোনো মানুষ নন। মানুষটি এন্ডি মুরে। ব্রিটিশদের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে যিনি এ বছরই জিতে নিয়েছিলেন টেনিস দুনিয়ার মর্যাদাপূর্ণ আসর উইম্বলডনে সেরাদের সেরা হওয়ার স্বীকৃতি। কাজেই তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষ আর অটোগ্রাফ শিকারিদের কৌতুহল থাকাটা মোটেও অবাক হওয়ার মতো কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু তারপরও হঠাত্ ট্রাফিক সিগনালে আটকে পড়া তার গাড়িটির দিকে সেদিন হুট করে দু’জন মানুষ যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন সেটা মোটেও স্বাভাবিক কিছু ছিল না। অনেকটা ফিল্মি কায়দাতেই পাশের একটি গাড়ি থেকে একখানা টেনিস খেলার র্যাকেট হাতে নিয়ে মুরের গাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। উদ্দেশ্য ছিল সাথে থাকা ট্যানিস র্যাকেটটিতে প্রিয় তারকার স্বাক্ষর নেওয়া। কিন্তু মুরে এবং তার সাথে থাকা এজেন্ট এই দুই ব্যক্তির উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই পুনরায় চলতে শুরু করে মুরের গাড়ি। অগত্যা দ্রুত নিজেদের গাড়িতে উঠে তাদের পিছু নেন ওই দুই অটোগ্রাফ শিকারিও। ঘটনার এ পর্যায় পর্যন্ত হয়তো চমকে যাওয়ার মতো কোনো উপাদান নেই। কিন্তু অটোগ্রাফ শিকারিদের জন্য তখন ভিন্ন এক চমক তৈরি হয়ে গিয়েছিল নিজেদের অজান্তেই। এতক্ষণ ধরে পুরো দৃশ্যটি যারা রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছিলেন তাদেরই একজন ওই দুই ব্যক্তির সাথে থাকা র্যাকেটটিকে আগ্নেয়াস্ত্র ভেবে ভুল করেন। সাথে সাথে তারা বিষয়টি ফোন করে জানিয়ে দেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের টহল দলকেও। আর ব্যস্ত রাস্তায় ফিল্মি স্টাইলে এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাড়া করার সম্ভাব্য বিপদ অনুধাবন করেই দ্রুত অ্যাকশনে নামে হাইওয়ের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ দল। একসময় চেলসি এলাকায় পুলিশ অভিযোগের বিবরণের সাথে মিলিয়ে থামাতে সক্ষম হয় ওই দুই ব্যক্তিসহ মোট চার আরোহীর মার্সিডিজ গাড়িটিকে। সাথে সাথেই তাদের আটক করে তল্লাশি নেওয়া হয় গাড়িটির। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র দূরে থাক, মামুলি কোনো ধারালো অস্ত্রের সন্ধানও যখন দূর অস্ত তখন সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। আর পুলিশের হেফাজতে করা এই জিজ্ঞাসাতেই বেরিয়ে আসে অটোগ্রাফ শিকারিদের হাস্যকর পরিণতির গল্পটি।