শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক্সপোজার সংশোধনীর প্রজ্ঞাপন জারির সংবাদে রবিবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। তবে পরের কার্যদিবস গতকাল সোমবার আবারো বড় দরপতন হয়েছে।
গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬০ পয়েন্ট কমেছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্সও কমেছে একশ পয়েন্টের উপরে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের এক্সপোজারে সংশোধনী এনে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা নির্ধারিত কয়েকটি খাতের প্রাইভেট লিমিটেড ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হবে না। ফলে সমপরিমাণ টাকা তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।
নতুন নির্দেশনা অনুসারে, সরকারি উদ্যোগের অবকাঠামো প্রকল্প-যেমন বিদ্যুেকন্দ্র বিদ্যুত্ ও জ্বালানি অবকাঠামো, সড়ক ও সেতুসহ যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটন অবকাঠামো, ডিজিটাল অবকাঠামোতে একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭০০ কোটি টাকা অথবা একক গ্রাহক ঋণসীমার মধ্যে যেটি কম, সে পরিমাণ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
পিপিপির কোম্পানির ক্ষেত্রে ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা ও পরিশোধিত মূলধনের ২২ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে।
বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা ও পরিশোধিত মূলধনের ২০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপণ জারির পর রবিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক একশ পয়েন্টেরও বেশি বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে লেনদেনের পরিমাণ। কিন্তু সোমবার সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৭৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
মূল্যসূচকে এই উত্থানের দিনে ডিএসইতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার পাঁচগুণের বেশি। দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দাম।
মূল্যসূচক ও সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমার পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। এ দিন কোম্পানিটির মোট ৪০ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে এসকে ট্রিমস এবং ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেনে তৃতীয় স্থানে ওঠে এসেছে ফরচুন সুজ।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি ব্যাংক, ডরিন পাওয়ার, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী লাইফ, মুন্নু সিরামিক এবং এস্কয়ার নিট কম্পোজিট।
অন্যদিকে গতকাল সিএসইর সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স ১২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৪৮ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ১৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির।
