পথে-ঘাটে

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪২
‘চল্ লুডু খেলি। তুই আওয়ামী লীগ, আমি বিএনপি।’ খুব আয়োজন করে লুডু খেলতে বসে গেলেন দু’জন। ‘আমিও খেলব’- বলেই বসে গেলেন আরও দুই জন। হরতালে বলতে গেলে হাতে কোনো কাজ নেই কাওরান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের। ক্লান্তিকর (!) অবসরে লুডু খেলাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তারা। শুরু হলো সাপলুডু খেলা। বেশ বড় বোর্ডে খেলা চলছে। চারপাশে জুটে গেল দর্শক, সমর্থক। তারাও হাতে কাজ না থাকা শ্রমিক বা খুচরা ব্যবসায়ী। ঘুঁটি চলছে। কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা পড়লেই খেলোয়াড়ের বিজয় উল্লাস। না পড়লে আফসোসের দীর্ঘঃশ্বাস। - বিএনপিই এগিয়ে যাবে দেখিস। - আরে দেখ না। সামনে সাপ আছে না। মাথায় যে বড় সাপটা ওইটাই বিএনপিরে খাইবো। - বিএনপিরে খাইবো না। বিএনপি মই পাইবো। সাপ তোর আওয়ামী লীগরে খাইবো। - খেলতে পারলে জিত হইবোই। - এহানে পারা না পারার কি আছে। ভাগ্যে যা আছে তাই তো পড়বে। ভাগ্যে থাকলে সাপে খাইবো। না অইলে মই পাইবো। - নির্বাচন দিয়ে দিলে একবার আর রক্ষা করতে পারবো না। পাঁচ বছর টাইন্যা লইয়া যাইবো। - নির্বাচন দিলেই টিকতে পারবো না। নির্বাচন দিছিল না খালেদা। টিকতে পারছিল? - আরে হেই দিন কি আর আছে নাকি? - মন্ত্রীরা পদত্যাগ করছে মানেই তো খেলা শুরু অইয়া গেছে। - খেলা তো সব আওয়ামী লীগই করতাছে। বিএনপির তো কোন খেলায় নেই। হরতাল মারপিট তো খেলা না। - তলে তলে কোন খেলা খেলতাছে কে জানে। - কি আর খেলবো। - একদিকেই যাইতাছে। - খেলা সবে শুরু। এবারে যে কি খেলা হবে তা কেউ জানে না। সাপলুডু খেলায় চারজনেরই ঘুঁটি ততক্ষণে প্রায় অর্ধেক পথ পার করেছে। কারোটা এগিয়ে। কারোটা সামান্য পিছিয়ে। খেলার শেষটা আর দেখা হলো না। ততক্ষণে দর্শকের ভিড় অনেক বেড়ে গেছে। আর সকলের মনোযোগ তখন খেলায়। কাকে সাপে খেল। কে মই পেল। কাকে ছোট সাপে খেল, কাকে বড় সাপে খেল। কে ছোট মই পেল। কে বড় মই পেল।