গল্প নয় সত্যি

দশ বছরের শিশুর উল্টো কথন!

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৪২
তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে নিজের কিংবা সন্তানের সামান্যতম প্রতিভাও যেখানে অন্যের চোখে পড়বার অপেক্ষায় গৃহের অন্তরালে পড়ে থাকে না সেখানে ব্যতিক্রমধর্মী কোনো প্রতিভা হলে তো কথাই নেই। তার ওপর এই প্রতিভার মালিক যদি হয় দশ বছর বয়সী কোনো শিশু তাহলে কিছুদিনের জন্য হলেও তার কীর্তি অনলাইন দুনিয়ার মনোযোগ পেতে বাধ্য। যেমনটা সম্প্রতি হয়েছে স্কটল্যান্ডের ক্যামেরন বিসেটের ক্ষেত্রে। ক্যামেরনের ভাষা দক্ষতা কিংবা আরও নির্দিষ্ট করে বললে যেকোনো ইংরেজি বাক্য উল্টো করে বলার দক্ষতা গেল ক’দিনে দারুণভাবে সাড়া জাগিয়েছে ইন্টারনেটের ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ লোক একবারের জন্য হলেও ক্যামেরনের কীর্তি দেখতে ঢুঁ মেরেছেন তার বাবা-মায়ের প্রকাশ করা এই ভিডিওতে। এ ছাড়া কৌতুহলীদের কারণে গেল ক’দিনে প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে ভিডিও’টি দেখা লোকেদের সংখ্যা। ‘মাই টেন ইয়ার ওল্ড সন ক্যান টক ব্যাকওয়ার্ডস’ শিরোনামের এই ভিডিওটিতে ক্যামেরনকে প্রথমেই দেখা যায় ‘মাই নেম ইজ ক্যামেরন এন্ড আই লিভ ইন স্কটল্যান্ড’ এই বাক্যটি উল্টো দিক থেকে বলতে। এখানে উল্টো করে বলা মানে শুধুমাত্র শব্দগুলো উল্টো করে বলা নয়, বরং একেবারে শব্দের মাঝে থাকা বর্ণগুলোই উল্টো দিক থেকে বলতে দেখা যায় ক্যামেরনকে। আর ক্যামেরনের বলা এই উল্টো কথন যে কতটা নিখুঁত তার প্রমাণ মেলে তার হাতে ধরে থাকা একটি আইপ্যাডে চলতে থাকা বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। এই সফটওয়্যারটির বৈশিষ্ট্যই এই যে এটি যেকোনো কথাকেই উল্টো করে অনুবাদ করার মতো করে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দিতে পারে। কাজেই ক্যামেরনের বলা উল্টো বাক্যগুলো যখন আইপ্যাডের মাধ্যমে সোজা হয়ে ফিরে আসে তখনই সেটি যে নির্ভুল ছিল তা বুঝতে পারেন তার বাবা-মা। এভাবে প্রায় সাড়ে চার মিনিট স্থায়ী এই ভিডিওটি’তে ক্যামেরনকে একে একে ‘আই ওয়েন্ট আউটসাইড টু প্লে অন মাই বাইক টুডে’, ‘আই এম গোয়িং টু কানাডা ফর মাই সামার হলিডেজ’ এবং ‘আই ফেল অফ মাই বেড অ্যান্ড ল্যান্ডেড অন মাই হেড’ এর মতো বেশ কয়েকটি বাক্য উল্টোভাবে বলে শোনান। তবে সবচেয়ে কঠিন এবং চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, ভিডিওর শেষে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে ম্যারি পপিনের একটি কঠিন গানও উল্টো করে গাইতে দেখা যায় ক্যামেরনকে। সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য এই শিশুতোষ কীর্তিটি দেখতে যে কয়েক লক্ষ লোক ইউটিউবে ঢুঁ মেরেছেন সেটিকে পুরোপুরি যৌক্তিক বলেই মানতে হয়।