অপেশাদার চালক

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ২২:০০

গত রবিবার আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন যে, এবার ঈদে পেশাদার চালক ছাড়া কেহ গাড়ি চালাইতে পারিবেন না। এইজন্য ঢাকায় প্রবেশ ও বাহির হইবার পথে বসানো হইবে চেকপোস্ট। মহাসড়কে অব্যাহত থাকিবে পুলিশি টহল। সন্দেহজনক গাড়ি দেখিলেই তাহা থামাইয়া লাইসেন্স পরীক্ষা করা হইবে। ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইহা একটি শুভ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে। ইহাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়া প্রশ্নের কোনো অবকাশ নাই। তিনি জনগণের মনের কথাই বলিয়াছেন; কিন্তু বাস্তবে ইহা কতটুকু কার্যকর করা যাইবে তাহাই বড় প্রশ্ন। ইহা কার্যকর করিতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সহযোগিতার দরকার হইবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর দুয়ার হইতে ফিরিয়া আসা খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলিয়াছেন যে, এবারের ঈদ যাত্রা অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে স্বস্তিদায়ক হইবে। কেননা ঈদযাত্রায় আমাদের প্রধান যে সমস্যা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সেখানে এবার সুখবর রহিয়াছে। আগামী ২৫ মে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নবনির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু এবং জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুইটি সেতু, দুইটি ফ্লাইওভার ও চারটি আন্ডারপাস ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইহাতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্ট অনেকটা লাঘব হইবে বলিয়া আশা করা যায়। কিন্তু ঈদযাত্রার বড় বিড়ম্বনা যে সড়ক দুর্ঘটনা সেখানে উন্নতি লাভ করিতে হইলে দক্ষ চালক দ্বারা গণপরিবহন চালানোর কোনো বিকল্প নাই। গত বত্সর যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংসদে পাস হইয়াছে সেখানে একজন পেশাদার চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়স নির্ধারণ করা হইয়াছে যথাক্রমে অন্যূন অষ্টম শ্রেণি পাস ও ২১ বত্সর। ইহাছাড়া তাহারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র প্রাপ্ত হইবেন; কিন্তু খোদ বিআরটিএ’র তথ্য মতে, দেশে মোট নিবন্ধিত হালকা ও ভারি গাড়ির সংখ্যা যেখানে ২৯ লক্ষ ২০ হাজার ৮৩৬টি, সেখানে ইহার বিপরীতে এইসব গাড়ির লাইসেন্সধারী ড্রাইভারের সংখ্যা ১৭ লক্ষ। অর্থাত্ ১২ লক্ষ ড্রাইভারই লাইসেন্সবিহীন ও অপেশাদার। এই অপেশাদার চালকের কারণে শত শত দুর্ঘটনা ঘটিতেছে। মারা যাইতেছে হাজার হাজার মানুষ। যেখানে অপেশাদার চালকের সংখ্যা কম নহে এবং ঈদযাত্রায় যাত্রী ও পরিবহনের  অত্যধিক চাপ থাকে, সেখানে শুধু পেশাদার চালক দ্বারা গাড়ি চালানো কিভাবে সম্ভব? প্রকৃতপক্ষে অপেশাদার চালক যেন কোনোভাবে গণপরিবহন চালাইতে না পারে, এইজন্য সারা বত্সর ধরিয়া পেশাদার চালক তৈরিতেও আমাদের সচেষ্ট হইতে হইবে।

প্রতিবত্সর ঈদ উদযাপন করিতে অর্ধ কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়িয়া যান। এইভাবে একসঙ্গে অধিক সংখ্যক মানুষের মুভমেন্টের কারণেই নানা সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ঢাকা ছাড়িয়া যাওয়ার সময় সড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে, তাহার চাইতে বেশি ঘটে ঈদশেষে ছুটি কাটাইয়া ঢাকায় ফিরিবার সময়। সুতরাং এই সময় বাড়তি নজর দিতে হইবে। ঈদযাত্রার সময় লাইসেন্সবিহীন, অদক্ষ ও অপেশাদার চালককে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে যথাসম্ভব নিরুত্সাহিত করিতে হইবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করিতে অন্যান্য জরুরি বিষয়েও নজর দিতে হইবে।