দুই নেত্রীর স্বার্থহীন সিদ্ধান্তেই সুষ্ঠু
নির্বাচন সম্ভব
বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে গণতন্ত্র মৃতপ্রায়। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষ সুশাসন এবং শান্তি চায় কিন্তু সবকিছুই এখন এককেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। যে সরকার ক্ষমতায় আসে প্রশাসন তথা সকল প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কেমন যেন ক্ষমতাশীন দলের পা চাটা গোলাম বনে যান। সরকার দলীয় এমপি, মন্ত্রীরাও এর অনেক সুবিধা ভোগ করেন যার ফলে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের মত ঘৃণিত কাজ করেও অনেকে ধরা-ছোঁয়ার বাহিরেই থেকে যায়। এতে সুশাসন খর্ব হয়ে পড়ে। এই সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যার দ্বারা মানুষ বর্তমান সহিংসতা থেকে মুক্তি পাবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন তখনই সম্ভব যখন দুই নেত্রী তাদের স্বার্থের কথা ভুলে জনগণের কথা চিন্তা করে নতুন কোন সিদ্ধান্ত নিবেন। নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকি নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে সেটার মতামত জনগণ দিবে। নিজের ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে কারো মনগড়া সিদ্ধান্তে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আরেকটা কথা প্রশাসন এবং মিডিয়াকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে অন্যথায় গণতন্ত্র আবারো হুমকির মুখে পড়বে।
সুমন কায়সার
চতুর্থ বর্ষ, ইংরেজি, ঢাকা কলেজ
রাষ্ট্রপতিকে নির্দলীয় সরকারের
প্রধান করলে সুষ্ঠু
নির্বাচন আশা করা যায়
দেশে যেকোন সরকারই আসুক না কেন তারা সামান্য সময়ের জন্য আসে তাই তারা কোন উন্নয়নমূলক কাজের সাথে তেমন ভূমিকা রাখতে পারে না। আবার অন্য সরকার আসলে তা অনেক ক্ষেত্রে বাতিল করে দেয় অথবা তার দিকে ভ্রূক্ষেপ করে না। আবার অন্য প্রকল্প হাতে নেয়। নির্বাচনের সময় আসলে তারা একে অপরের প্রতি সহিংস হয়ে উঠে। তাদের মাঝে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তাই সকল দলের মতের ভিত্তিতে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য দেশের বৃহত্ দলগুলোর মাঝ থেকে দশজন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। তারা শুধু নির্বাচনকালীন সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা উক্ত সময়ে বা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। নির্বাচিত দলের কাছে দেশের শাসনভার অর্পণ করে স্ব-পদে চলে যাবেন রাষ্ট্রপতি। এভাবেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব।
পলাশ সরকার,
মাষ্টার্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
তিতুমীর সরকারি কলেজ, ঢাকা।
বরেণ্য ব্যক্তিরাই পারে চলমান
সহিংস রাজনীতিকে মোকাবিলা করে
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে
নির্বাচন নির্ধারণীতে সমাধান না হলেও সমঝোতা সম্ভব। ১৪ দল বনাম ১৮ দলের সহিংস রাজনৈতিক খেলার অবসানকল্পে রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে, তত্ত্বাবধায়কও নয় আবার নির্দলীয়ও নয় বরং নিরপেক্ষ রাজনৈতিক-দেশপ্রেমিক, চলমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক নীতি-নির্ধারকগণ, গণমাধ্যমের স্বনামধন্যরা, বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাক্তন ভিসি পর্যায়ের জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ, সামরিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ (অবসরপ্রাপ্ত), বিচার বিভাগের প্রাক্তন সুনিপুণ বিচারকগণের সমন্বয়ে ২০ সদস্যের একটি কমিটি (যদিও তারা কেউ রাজনীতির ঊর্ধ্বে নয়), এমন সাদা মনের দূরদর্শন সম্পূর্ণ বরেণ্য ব্যক্তি-বর্গরাই পারে দেশের চলমান সহিংস রাজনীতিকে মোকাবেলা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মো. মহসীন আলী,
অর্থনীতি বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
দু’দল একসঙ্গে নির্বাচন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন
হবে
আমাদের সরকার ও বিরোধী দল শুধু একে অপরকে দোষারোপ করছে আর একে অপরের ভুল ধরছে, যা কোন আশার কথা নয়। তারা সামনা-সামনি সংলাপে না বসে রাজপথে ভাঙচুর করে এবং মানুষ হত্যা করে। এতে দেশের কত বড় ক্ষতি হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা ব্যথা নেই। তারা শুনছেন না দেশের বুদ্ধিজীবীদের কথা, না ভাবছেন দেশ ও দেশের মানুষের কথা। তারা শুধু ক্ষমতার লড়াইয়ে দৌড়-ঝাঁপ দিচ্ছেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন, দেশের মানুষতো আর এসব চায় না। আর রাজপথে নেমে যদি সব সমাধান হতো তাহলে অনেক আগেই তো সরকারি দল ক্ষমতা দিয়ে তাদের প্রতিহত করছে। কিন্তু সমাধানের দেখা নেই, শুধু বলছে সংলাপে বসুন, আসুন আমরা দেশের ভালোর জন্য একসাথে কাজ করি। কিন্তু সংলাপ ঐটুকুতে শেষ। আর এগোচ্ছে না। কিন্তু জনগণতো আর এত মারপ্যাঁচ জানে না, তারা বুঝে সহজ-সরল, তারা চায় দু’টি দল সংলাপে বসে কেমন করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা যায়।
তারা চায় অতীতের সকল হিসাব-নিকাশ ভুলে তারা একসাথে দেশের ভালোর জন্য কাজ করবেন। তাই বলছি এখন সময় হয়েছে সমঝোতার।
মোঃ মোশারফ হোসেন সোহাগ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
চট্টগ্রাম।
