ছোট ছেলে মো. মাহবুবুর রহমান বাপ্পীকে (২৩) হারিয়ে মা জেসমিন আক্তার শোকে পাগলপ্রায়। ছেলে খুন হওয়ার পর থেকে অসুস্থ মা ঘন ঘন জ্ঞান হারাচ্ছেন। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার ছেলে কখন আসবে। তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। দু’ছেলে একসঙ্গে বসে খাবার খাবে।’ মাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা নেই স্বজনদের। দু’বছর আগে বাপ্পীর বাবা আনোয়ার হোসেন মারা যান। স্বামীকে হারিয়ে দু’ছেলের আদর-স্নেহেই বাঁচার প্রেরণা পেতেন জেসমিন আক্তার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের সুখছড়ী পুরাতন বিওসি এলাকায় বাপ্পীর বাড়ি। তিনি ছিলেন বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি। তার বড় ভাই মো. রাসেল একজন ভিডিও এডিটর । সন্ধ্যায় দু’ ভাই একসাথে বাড়ি ফিরতেন। তাদের মা টেবিলে খাবার নিয়ে বসে থাকতেন- কখন ছেলেরা বাড়ি ফিরবে। টেবিলের খাবার টেবিলেই রয়ে গেল। মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল বাপ্পী। বড় ভাই মো. রাসেল বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা ভাইকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল। আমার ভাইয়ের কি অপরাধ ছিল? সন্ত্রাসীরা ভাইকে কেন মারল? আমার ভাইয়ের খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ পরিবারের দাবি বাপ্পীকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা খুন করেছে।
গত ১০ নভেম্বর রাতে প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বাপ্পীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী বাপ্পীকে জবাই করে হত্যা করে। ১১ নভেম্বর ময়না তদন্ত শেষে তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ঐদিন বাদ আছর সুখছড়ী রহমানিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
