টিআইবি-র মতে, ঢাকায় বাসাবাড়িতে বিশুদ্ধ পানির জন্য ওয়াসার পানি ফোটাতে বছরে সাড়ে তিন শ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয়। বছরে পুড়ছে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ঘনমিটার গ্যাস। আর ঢাকা ওয়াসার পানি যদি শতভাগ নিরাপদ থাকে তাহলে এ অপচয় হয় না। তাদের ৯১ শতাংশ গ্রাহক পানি ফুটিয়ে পান করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটির ওপর নগরবাসীর আস্থা নেই। প্রায়ই দুগর্ন্ধ, পোকা ওয়াসার পানিতে পাওয়া যায়। পানির সংকট তো লেগেই আছে। ড্রেন-নদর্মার পানির সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার পানির লাইনের লিকেজ ক্ষতিকারক। মূলত ঢাকা ওয়াসার ৬২ শতাংশ গ্রাহক হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার। নিম্নমানের কাজের জন্য ঢাকা ওয়াসার জলবদ্ধতা প্রকল্প, ড্রেনেজব্যবস্থা ও ম্যানহোলগুলো কার্যত কাজে আসে না। এখানে বড় দুর্নীতি সক্রিয়। দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, চুরি, ঘুষ ইত্যাদির আবর্তে ঢাকা ওয়াসা জর্জরিত। সেবা বলতে এখানে কিছু নেই, আছে শুধু বিড়ম্বনা। এই গ্রীষ্ম মৌসুমে পুরনো ঢাকায় পানি সংকট চলছে। ওয়াসার পানি খেয়ে নগরবাসী ডায়রিয়া, জণ্ডিস, চর্মরোগ, টাইফয়েড ও কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছে। পানির অপর নাম জীবন। রাজধানীর মানুষকে নির্বিঘ্নে পানি সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ দিনের পর দিন চলতে পারে না। ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পাইপ লাইনে রয়েছে ফুটো ও লিকেজ। এসব সংস্কারে কখনো দেরি করা উচিত নয়। মাঠ পর্যায়ের সেবা কার্যক্রম, খাল পরিদর্শন, রাজস্ব আদায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঢাকা ওয়াসাকে করতে হবে। পানি ও পয়োবর্জ্য নিরাপদে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে নতুন নতুন পয়ঃলাইন সংযোগ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
ফরিদাবাদ-গেণ্ডারিয়া, ঢাকা ১২০৪
