হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে গতকাল বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার ৬৫তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্বলন ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের উত্সবের সূচনা হয়। হুমায়ূন আহমেদের অমর সৃষ্টি হিমু ভক্তদের এবং নুহাশ পল্লীর পক্ষ থেকে মোমবাতি প্রজ্বলন ও কেক কাটা হয়। ৮-৯ শ’ মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে পুরো নুহাশপল্লী আলোকিত হয়ে উঠে। মোমবাতি প্রজ্বলন ও কেক কাটার পর হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালনের জন্য মঙ্গলবার রাতেই প্রায় ৬০ জন হিমু ভক্ত হলুদ পাঞ্জাবী পরে নুহাশ পল্লীতে আসেন। গতকাল বুধবার সকালে হিমু ভক্তরা জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশ পল্লীতে কয়েকটি গাছের চারা রোপণ করেন। বাদ জোহর নুহাশ পল্লীতে এতিম বাচ্চাদের অংশগ্রহণে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। নুহাশ পল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হুমায়ূন আহমেদের জীবদ্দশায় নুহাশ পল্লীতে যেভাবে জন্মদিন উদযাপন করতেন ঠিক একইভাবে তার জন্মদিন পালন করা হয়েছে।
নেত্রকোনায় নানা আয়োজন
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, হুমায়ূন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিন উপলক্ষে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে গতকাল বুধবার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের উদ্যোগে গ্রহণ করা হয় নানা কর্মসূচি। পরম মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে এ দিবসটি উদযাপন করে বিদ্যাপীঠের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কুতুবপুর গ্রামবাসীসহ আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণ সব মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়। দিবসের কর্মসূচির মধ্যে ছিল কুরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া, কেক কাটা, হুমায়ূন আহমেদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তপক অর্পণ, বর্ণাঢ্য র্যালী, গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠি খেলা, জারিগান ও লোকজ সংস্কৃতির ঢংয়ে বিভিন্ন বাদ্য বাজনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হুমায়ূন আহমেদের জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা সভা, হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন, বাউল গান। দুপুরে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন হুমায়ূন আহমেদের চাচা আলতাফুর রহমান আহমেদ।
এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের নানা বাড়িতেও নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদ পুরুষকে স্মরণ করা হয়।
