বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী দল, মানুষ খুন করে

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী দল। তারা হরতালের নামে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে মানুষ খুন করে। মানুষ তাদের সমর্থন দেয় না। তারা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে। এই কয়েকদিনে তারা অন্তত ত্রিশজনকে হত্যা করেছে। তারা কী রাজনীতি করবে? বুধবার বিকালে বাগেরহাট শহরের খান জাহান আলী ডিগ্রী কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তিনি পাঁচশ’ জায়গায় বোমা ফাটিয়েছেন। আমাকে হত্যা করতে চেয়েছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার তদন্তে তার একজন কেবিনেট মন্ত্রী ও তার বড় ছেলের নাম উঠে এসেছে। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে ২২ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’ বিএনপির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী, বিডিআর বিদ্রোহ মামলা, জেলহত্যা ও জাতির জনক হত্যা মামলার আসামিদের রক্ষার চেষ্টার অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে লাভ হবে না। আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করেছি। অন্য সব মামলারও বিচার করবো এবং আদালতের রায় কার্যকর করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে দেশে উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি জামায়াত সরকার গঠন করলে জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, নির্যাতন বেড়ে যায়। তিনি তার সরকারের সময়ে নেয়া অবকাঠামোগত ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারিকরণ করা হবে। দেশে বিদ্যুতের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে মাত্র চার বছর নয় মাসে এই সরকার দশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বিদ্যুতের নামে খাম্বা উত্পাদন করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। আমরা রামপালে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করেছি। দেশের মানুষ আগামীতে এর সুফল পাবে। যদি নৌকায় ভোট পাই, আগামীতে সরকার গঠন করি তবে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেবো। বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু, বাগেরহাট-১ আসনের এমপি শেখ হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস.এম. কামাল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা, খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আউয়াল এমপি, বাগেরহাট-২ আসনের এমপি মীর শওকাত আলী বাদশা প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী বুধবার বাগেরহাটের মংলা, রামপাল ও বাগেরহাট শহরে পৃথক দুটি জনসভা ও সুধী সমাবেশে অংশ নেন। মংলায় তিনি একটি, রামপালে ১২টি এবং বাগেরহাটে দুটি বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ১৮টি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া শিশুদের শিক্ষিত করতে চান না। তাই তিনি পরীক্ষার মধ্যে হরতাল দেন। আমাদের সরকার শিশুদের জন্য পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা শুরু করেছে। এ পর্যন্ত আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ১১৯ কোটি বই বিতরণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ১৭৯ শিশুকে, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে এবং ডিগ্রীতে এক লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এর আগে বেলা ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে বাগেরহাটের মংলায় আসেন এবং জয়মনির ঘোল গ্রামে নির্মাণাধীন আধুনিক খাদ্য গুদামের (সাইলো) নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। রামপাল সংবাদদাতা হাওলাদার আ. হাদি জানান, মংলা থেকে দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় আসেন। রামপালের শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী এখানে বলেন, ‘রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের পর এই এলাকা আলোকিত হবে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না। এই প্রকল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাবিতে আসছেন আজ ইত্তেফাক রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ও নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবন উদ্বোধন করবেন তিনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী শেখ হাসিনার এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় আগমন। উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন তিনি। সকাল ১০টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন। ছয়টি ভবন উদ্বোধন করবেন। ৭টি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদ্বোধন ইত্তেফাক রিপোর্ট কয়লাভিত্তিক সাতটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের ফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুতের ১০ হাজার মেগাওয়াট স্থাপন ক্ষমতা এবং জাতীয় বিদ্যুত্ সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কক্ষে আলোক উত্সব অনুষ্ঠানে তিনি সাতটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের ফলক উন্মোচন করেন। একই সাথে টেলিটকের মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে আরইবি’র বিদ্যুত্ বিল শোধ করার কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিই করবে ওরিয়ন গ্রুপ। এগুলো হচ্ছে ওরিয়ন পাওয়ার ঢাকা লিমিটেড তিনটি (৬৩৫, ৫২২ ও ২৮২ মেগাওয়াট), ওরিয়ন পাওয়ার খুলনা লিমিটেড ৬৩০ মেগাওয়াট এবং ওরিয়ন পাওয়ার চট্টগ্রাম লিমিটেড ২৮২ মেগাওয়াট। এছাড়া চট্টগ্রামে ৬১২ মেগাওয়াট ও মুন্সীগঞ্জে ৫২২ মেগাওয়াট। প্রধানমন্ত্রী শ্রীলংকা যাচ্ছেন আজ বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সভায় যোগ দিতে দুই দিনের এক সরকারি সফরে আজ বৃহস্পতিবার শ্রীলংকা যাচ্ছেন। শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে আগামীকাল শুক্রবার এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে কলম্বোর উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী বন্দেরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দর থেকে একটি মটর শোভাযাত্রা সহকারে তিনি তাজ সমুদ্র হোটেলে যাবেন। সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত দিন কাটাবেন। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সভায় যোগদান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপাকশে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কী’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং সুশীল প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত্ উপলক্ষে কমনওয়েলথ মহাসচিবের দেয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। আজ কলম্বো পৌঁছানোর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাজ সমুদ্র হোটেলে সাক্ষাত্ করবেন। আগামীকাল শনিবার রাতে তিনি দেশে ফিরবেন।