ফিলিপাইনে শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে বিধ্বস্ত তাকলোবানের অ্যালেঙ্গানাং শহরে চালের গুদামে হামলা চালিয়েছে ত্রাণের জন্য হাহাকাররত ক্ষুধার্তরা। তারা গুদামে লুটপাট চালায়। এ সময়ে গুদামের দেয়াল ধসে ৮ জন নিহত হয়েছে। তাকলোবান থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অ্যালেঙ্গানাং শহর অবস্থিত। খবর বিবিসি,রয়টার্স ও এএফপির।
ফিলিপাইনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের ছোবল থেকে বেঁচে যাওয়া হাজার হাজার দুর্গত মানুষ খাদ্য, পানি আর আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ঝড়ের পাঁচদিন পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাকলোবান শহরের বাইরে লোকজন গতকাল চালের একটি গুদামের ওপর চড়াও হলে সেখানকার একটি দেয়াল ধসে গিয়ে আটজন নিহত হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলার অভাবে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সাহায্য বিতরণে বিঘ্ন ঘটছে। শুক্রবারের এই টাইফুনে, সরকার বলছে, দুই হাজার দুইশর বেশি লোক নিহত হয়েছে। টাইফুন হাইয়ানের হাত থেকে যারা বেঁচে গেছেন, তারা এখন ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন খাদ্য, পানি আর ওষুধপত্রের জন্য। সাহায্য কোথায়?- হতাহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে সবার মুখে এই প্রশ্নটি ফিরছে।
যারা দুর্গত অবস্থায় বেঁচে আছেন তাদের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। জাতিসংঘের হিসেবে এক কোটি দশ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত এর মধ্যে বাড়িঘর হারিয়েছেন প্রায় ৬ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। টাইফুনের আঘাতে শুধু বাড়িঘর নয়, সরকারি অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা-সবই মাটির সাথে মিশে গেছে। ফলে দুর্গত লোকদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিপন্ন মানুষ ক্রমশই ক্ষুব্ধ আর বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তারা হামলা চালাচ্ছেন খাদ্য গুদামে, দোকানপাটে। ম্যানিলায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের কর্মকর্তা সোয়াদ মেসুদি বলছেন, ত্রাণসংস্থাগুলো দুর্গত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য বলছেন যে ত্রাণ তত্পরতা ঠিকমতই চলছে, খাদ্য ও পানির সরবরাহ দেয়া হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে।
