-ঘরে-বাইরে কোন দিকে শান্তি নেই। একদিকে হরতালে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। আবার অন্যদিকে নিজেদের ইচ্ছেমত পদত্যাগ করে অফিস করছে। এটা কিভাবে মেনে নেয়া যায়?
- কোনটাই মানার মত না।
- এইভাবে আমরা জিম্মি হয়ে থাকতেই ভালবাসি।
- ভোট দেন কেন?
চারদিনের হরতালের শেষ দিনে গতকাল বুধবার কথা চলছিল রাজধানীর পান্থপথের ‘বসুন্ধরা সিটি’র সামনে, কয়েকজন মধ্য বয়সী ব্যক্তির মধ্যে।
- ভোট আসলে আর কোন কথাই নেই। এক বাক্যে সব ভুলে ভোট যুদ্ধে সবাই লাইনে দাঁড়াবে। তখন গণতান্ত্রিক অধিকার সামনে এসে দাঁড়াবে। ভোট দেয়া আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার তো তাই।
- প্রতিবার ভোট আসবে। আর মানুষকে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে। পেছনের সব কথা ভুলে যায় তখন।
- এমন জোয়ার সৃষ্টি করা হয় যে, ভোট উত্সবে অংশ না নিয়ে উপায় নেই।
- বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব কম। অনেক তাড়াতাড়ি সব ভুলে যায়।
- আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন? আপনার স্মৃতিশক্তি ঠিক আছে তো?
- আমার মনে আছে বলেই তো এই কথা বলছি।
- স্মৃতিশক্তি কম তা না। আবেগপ্রবণ। আবেগে সব কথা ভুলে যায়। সব অন্যায় মাফ করে দেয়।
- বাঙ্গালি ক্ষমাশীল জাতি—এ কথা মানতেই হবে।
- নিজের স্বার্থটাও ভাল করে দেখতে পারে না।
-ক্ষমা, আবেগ এগুলো আছে বলেই তো একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারে।
- হ্যাঁ কথা সত্যি। কিন্তু এর ফাঁকে অন্যরা ফায়দা লুটে নেয়।
- সরলতার সুযোগ নিয়ে নেতারা ফায়দা লোটে। সারাবছর নিজেরা ইচ্ছামত কাজ করে, আর ভোটের সময় ভাল ভাল কথা বলে আবার ভাল হয়।
- নেতাদের যেমন চরিত্র সাধারণ মানুষেরও তেমনই চরিত্র। নেতারা বার বার বদল হয়। আমরাও বার বার বদল হই।
- বদলাবদলি দিয়ে এক সময় ঠিক হবে।
- আরো একশ’ বছর লাগবে। এত সহজে ঠিক হবে না।
- বিএনপি নির্বাচনে না গেলে মানুষ ভোটের জোয়ারে যাবে না। তখন একটা অংশ যাবে। আর বিএনপি যদি ভোটে যায় তবে সব ভুলে মানুষ ভোট করতে থাকবে। তখন আর নেতাদের দোষগুণ বিচারের সময় থাকবে না। মানুষ পোড়ার কথা মনে থাকবে না। হরতালের কথা মনে থাকবে না।
