সাভার-গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৪
ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল বুধবার সাভার ও গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ, ভাংচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুলিশসহ ৬০ জন আহত হয়। খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধির। আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, গতকালও সাভারের হেমায়েতপুর ও কবিরপুর এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরে ব্যাবিলন গ্রুপের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় এ সময় আশপাশের অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সাভার-সিংগাইর সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এসময় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকার পলমল গ্রুপের শ্রমিকরাও একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে এক বৈঠকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সকল পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন। এতে গতকাল সকালে পোশাক শ্রমিকরা কারখানায় এসে গার্মেন্ট বন্ধ দেখে ফিরে যায়। পুরো শিল্পাঞ্চলে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর জেলা সদরের কয়েকটি স্থানে গতকাল সকালে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ, ভাংচুর ও ঢাকা-টঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। বিসিক শিল্প নগরী কোনাবাড়িতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৯টার দিকে গাজীপুর জেলা সদরের কোনাবাড়ি শিল্প এলাকার জরুনে ইসলাম গ্রুপ ও পার্শ্ববর্তী স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপসহ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে। তারা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্রমিকরা ইট ফেলে এবং টায়ার ও কাঠে আগুন ধরিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে এবং যানবাহন ভাংচুর শুরু করে। এ সময় শ্রমিকরা কমপক্ষে ২৫টি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। মহাসড়কে ভাংচুর থামাতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের আবারো সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, জরুন, লক্ষ্মীপুরা, চান্দনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক কাজ ফেলে রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় ঐসব এলাকার শতাধিক কারাখানা গতকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ঐসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, কাশিমপুরের জিরানী এলাকায় নর্দান, তুরাগসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিক সকালে নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কে বিক্ষোভ করে। কাশিমপুরের সারদাগঞ্জের জিএমএস ও বারেন্ডা এলাকার ডিবিএল গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানা বুধবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। জয়দেবপুর থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা ও শিল্প পুলিশ ৬০/৭০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।