বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো বগুড়া জেলার ভাসু বিহার-এর কথা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন যেসব বৌদ্ধ স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায় তারই অন্যতম হলো বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ভাসু বিহার। স্থানীয়দের কাছে নরপতির ধাপ নামে অধিক পরিচিত এই প্রত্নতাত্তিক স্থানটিতে রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ, দুটি বড় আকারের ভবনের কাঠামো এবং বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অল্প কিছুদিন পর ১৯৭৩ সালে এখানে প্রথমবারের মতো খনন করা হয়। আর এই খননের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে দুটি মধ্যম আকৃতির সংঘারাম এবং একটি মন্দিরের স্থাপত্তিক কাঠামোসহ বেশ কিছু প্রত্নবস্তু। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রত্নবস্তুর তালিকায় ছিল ক্ষুদ্রাকৃতির মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক ও সিলমোহর, মূল্যবান পাথরের গুটিকা, অলংকৃত ইট ও ফলক, মাটির প্রদীপ, পাত্রের টুকরা প্রভৃতি। সবমিলিয়ে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা প্রায় আট শতাধিক প্রত্নবস্তুর সন্ধান পান। অন্যদিকে সন্ধান পাওয়া সংঘারাম বা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আবাসস্থলের মধ্যে ছোট সংঘারামটির আয়তন ছিল উত্তর-দক্ষিণে ৪৯ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৪৬ মিটার। এর চার বাহুতে ভিক্ষুদের ২৬টি কক্ষ ছিল। কক্ষগুলোর সামনে চারদিকে ঘোরানো বারান্দা এবং পূর্ব বাহুর মাঝখানে প্রবেশ পথের অস্তিত্বও বেশ বোঝা যায়। বড় সংঘারামটি ছোটটির মতো দেখতে হলেও এর আয়তন ও কক্ষ সংখ্যা বেশি। বড় আকারের একটি খোলা অংশকে ঘিরে এসব ছোট আকারের বৌদ্ধভিক্ষুদের আবাসকক্ষগুলো অবস্থিত। কারও কারও মতে খোলা বড় অংশটি সম্ভবত ভিক্ষুদের মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া এখানে যে মন্দিরের কাঠামো পাওয়া গেছে তার মাঝখানে বর্গাকার মণ্ডপ এবং চারপাশে ধাপে ধাপে উন্নীত প্রদক্ষিণ পথ দেখতে পাওয়া যায়। জনশ্রুতি আছে যে, ভাসুবিহারের মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের একটি সোনার মূর্তি ছিল। যার নাম ‘অবলোকিতেশ্বর’, অর্থাত্ যে ঈশ্বর তাকিয়ে আছেন তার ভক্তদের দিকে। যদিও নানা সময়ে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় এ ধরনের কোনো মূর্তির সন্ধান মেলেনি। ভাসু বিহার ভ্রমণে যেতে চাইলে জেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে মহাস্থানগড় পেরিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে আরও প্রায় ৬ কিলোমিটার পধ পাড়ি দিতে হবে।
