বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে সমস্ত দেহ ঝলসে যায় বিএনপি কর্মী আবুল কাশেমের (৫০)। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুত্র রবিউল হক কাওসারের হাতে মাথা রেখে মারা যান তিনি।
হরতালে বোমা বানিয়ে দলীয় কর্মীদের কাছে সরবরাহ করে কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিলেন কাশেম। পুলিশ জানায়, প্রতি হরতালের মত কাশেম ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার উত্তর বরইয়াগ্রামে মুহুরী নদীর তীরে নির্জন স্থানে শ্যালো মেশিনের ঘরে গত মঙ্গলবার কয়েকজনকে নিয়ে হাত বোমা তৈরি করছিল। হঠাত্ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ঘরটি উড়ে যায়। আহত হন কাশেমসহ ৩ জন। সংকটাপন্ন অবস্থায় কাশেমকে ঐ দিন রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
কাশেমের পুত্র কাওছার জানান, তার পিতা আবুল কাশেম ঘটনার দিন দুপুরে রিকশাযোগে স্থানীয় মুন্সিরহাট বাজারে যাওয়ার সময় পিকেটাররা পেট্রোল দিয়ে রিকশায় আগুন লাগিয়ে দেয়। অপর এক আত্মীয় জানান, নিক্ষিপ্ত বোমায় তিনি গুরুতর আহত হন।
ফেনী পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ বলেন, মুন্সিরহাটে অনুসন্ধান করে সেখানে রিকশায় আগুন দেয়া কিংবা তার ওপর বোমা নিক্ষেপের আলামত পাওয়ায় যায়নি। স্থানীয় লোকজন এ সম্পর্কে কিছু জানে না। তবে শ্যালো মেশিনের ঘরে বিস্ফোরণ স্থলে গিয়ে বোমা তৈরির আলামত পাওয়া যায়। কাশেমসহ তিনজন বোমা তৈরির সময় আহত হন। অপর আহত ২ জনকে খোঁজা হচ্ছে বলে এসপি জানান। এদিকে আমাদের পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ফেনীর ফুলগাজীতে বোমা তৈরিকালে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত আবুল কাশেম ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামের এয়ার আহম্মদ ডিলারের বাড়ির পাশে বোমা তৈরিকালে বিস্ফোরণে আবুল কাশেম গুরুতর আহত হন। প্রশাসনিক ঝামেলা ও গ্রেফতার এড়াতে তাকে গোপনে সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র চিকিত্সা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চিকিত্সার জন্য ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবশেষে তার মৃত্যু হয়। তার গ্রামের বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামে। তিনি বিএনপির সমর্থক বলে জানা গেছে।
