নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নিখোঁজ থাকার প্রায় ৪ মাস পরে সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর নামের এক যুবক গত ১২ নভেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ঐ জবানবন্দিতে সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গত ২৯ জুলাই র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া ইউসুফ হোসেন লিটন নামের অপর একজন আসামি ত্বকী হত্যাকাণ্ডে নিজের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল। কিন্তু ঐ জবানবন্দিতে সালেহ রহমান সীমান্তের বাড়ীতে ত্বকীতে হত্যা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় এবং সেখানে কোথাও ওসমান পরিবারের কোন সদস্যের নাম ছিল না। তাই ভ্রমরের দেয়া জবানবন্দি তদন্তসংস্থা র্যাবের পুরো তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কারণ, রহস্যজনকভাবে একই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দু’জনের জবানবন্দি দু’রকম হওয়া তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এব্যাপারে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, শুধুমাত্র নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই নাটক সাজানো হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হোক এবং এখন এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করছি।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১২ নভেম্বর দুপুর ১২টায় ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১১ এর এএসপি রবিউল ইসলাম আসামি সুলতান শওকত ভ্রমরকে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে হাজির করেন। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় ভ্রমর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। সেখানে ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত দেড়টায় তাকে রূপগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে ভ্রমরের এই জবানবন্দির ঘটনা গতকাল আদালত পাড়া থেকে ফাঁস হয়ে গেলে র্যাবের তদন্ত নিয়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়। এর আগে গত ২৯ জুলাই একই আদালতে একই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন তার জবানবন্দিতে বলেছিলেন, আমি ইয়াবার বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে আমি ত্বকীর ব্যাপারে জানি এবং কিছু বলতে চাই। আমি অনুতপ্ত এবং অনুশোচনা থেকে নিজের দোষ স্বিকার করছি।
এদিকে আসামি লিটন ও ভ্রমরের দেয়া জবানবন্দি আকাশ পাতাল ফারাক উল্লেখ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা জানান, ত্বকীর পিতা ও মামলার বাদী রফিউর রাব্বির গত ৮ মার্চ সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর গত ১৮ মার্চ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি অবগতিপত্রে এই হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানসহ ৭ জনের নাম দিয়েছিলেন এবং তারা “কিলিং মিশনে” সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলে সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। লিটনের দেয়া জবানবন্দিতে সাবেক এমপি শামীম ওসমান বা তার পরিবারের কোন সদস্যের নাম ছিল না। শুধুমাত্র ওসমান পরিবারকে ফাসাতেই গত ৪ মাস ধরে ভ্রমর নামের ঐ যুবককে আটকে রেখে এই জবানবন্দি প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু জানান, লিটন ত্বকী হত্যাকাণ্ডে নিজের দোষ তথা সরাসরি অংশগ্রহণের কথা স্বিকার করে জবানবন্দি প্রদান করার পরেও র্যাব চার্জশীট প্রদানে বিলম্ব করছিল।
