আজ শুক্রবার ১০ মহররম পবিত্র আশুরা। মহররম হচ্ছে হিজরি বছরের প্রথম ও একটি মহান বরকতময় মাস। ‘আশারা’ আরবী শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে ১০। আর সে কারণে দিনটিকে ‘আশুরা’ বলে অভিহিত করা হয়। গতকাল সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়েছে আশুরা উদযাপন। আজকের দিনটি ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাত্পর্যমণ্ডিত।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, ‘পবিত্র আশুরার এই দিনে আমি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করি।’ প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ‘আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’
আশুরা একটি শোকাবহ দিন। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা:) ও তাঁর পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে শাহাদত বরণ করেন। সত্ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এই আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মার জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী তাই আমাদেরকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা দেয়।
গতকাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘আশুরার তাত্পর্য ও শিক্ষা’ শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে ওয়াজ করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও তেজগাঁও মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক। ওয়াজ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পুরনো ঢাকার হোসেনী দালান এলাকা থেকে সকালে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এসব মিছিল থেকে কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদতের উল্লেখ করে ‘হায় হোসেন হায় হোসেন’ বলার পাশাপাশি ঘটনার ওপর শোকগাঁথা পাঠ করা হবে।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, পবিত্র শাহাদাতে কারবালা স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ আয়োজন করে ছুন্নী আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। সমাবেশে বক্তারা ১০ মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবসকে মুসলিম মিল্ল¬াতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উল্লে¬খ করে বলেন, ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের শিক্ষা ও তাত্পর্য উপলব্ধির চেষ্টা ছাড়া ঈমান ও দ্বীন বুঝা সম্ভব নয় এবং প্রকৃত ইসলাম ও ইসলামের নামে ছদ্মবেশী কুফরীর প্রতারণার পার্থক্যও বুঝা সম্ভব নয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা শাহ আবু আরেফ সারতাজ। বক্তব্য রাখেন জনাব আবু আবরার চিস্তি, খাজা নাজিমুদ্দিন রাশেদ, আহমদ শাহ মোর্শেদ, এমদাদুল হক সায়ীফ, শেখ নঈম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, কামরুল আলম নকীব প্রমুখ।
