প্রিয়তমার জন্য করতে পারেন এমন কত সম্ভব-অসম্ভব কাজের কথাই তো বলে থাকেন পুরুষেরা। তবে তাই বলে নিজের হবু স্ত্রীক আক্ষরিক অর্থেই টাকার বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার মতো সাহস বা সামর্থ্য সবার থাকে না। আবার অর্থ দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ হয় না এটা যারা মানেন তারাও কখনও এ পথে হাঁটেন না। তবে লোকে যাই বলুক, অর্থ বা টাকা-কড়ির যে নিজস্ব একটা চমক বা খবর সৃষ্টির ক্ষমতা আছে এবার সে কথাটিকেই আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন দক্ষিণ-পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হুয়াং নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় রীতি অনুসারে হবু স্ত্রীকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অর্থ উপহার দেওয়ার চল থাকলেও হুয়াং রীতিমতো ৮,৮৮৮,৮৮৮ ইউয়ান বা ৯০০,০০০ পাউন্ডের (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে এগারো কোটি টাকা) চালান পাঠিয়েছেন তার ভবিষ্যত্ স্ত্রীর কাছে। শুধু তাই নয়, ছোট ছোট বাঁশের ঝুড়িতে ১০০ ইউয়ানের এই পরিমাণ নোট সাজিয়ে পাঠানোর জন্য তিনি ব্যবহার করেছেন ১৮ জন সুদর্শন কুলিকে। আর সবমিলিয়ে ১০২ কেজি ওজনের এই কাগজের মুদ্রা পাঠাতে হুয়াং তার হবু স্ত্রীর বাসায় যে গাড়ির বহর পাঠিয়েছেন সেটিও ছিল চমকে ওঠার মতো। এই গাড়ির বহরে মাসেরাতি স্পোর্টস কারসহ অনেক খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের গাড়িও ছিল। মজার বিষয় হলো, চীনা সংস্কৃতিতে আট সংখ্যাটিকে দেখা হয় সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে সাত হলো একটি লাকি নাম্বার। সবমিলিয়ে তাই সাতটি আটকে পাশাপাশি রাখলে যে অংকটি দাঁড়ায় (৮,৮৮৮,৮৮৮) ঠিক সে পরিমাণ অর্থই প্রিয়তমাকে পাঠিয়েছেন হুয়াং নামের এই ধনকুবের। এদিকে এভাবে অর্থের চমক দেখিয়ে গোটা দুনিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিলেও হুয়াংয়ের এই কাণ্ড নিয়ে খোদ চীনেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার এই কাণ্ডের যারা সমালোচনা করেছেন তাদেরই একজন চীনের জনপ্রিয় মাইক্রো ব¬গিং সাইট ওয়েইবোতে মন্তব্য করেছেন, ‘এটা আসলে কাউকে বিয়ে করা নয়, বরং তাকে কিনে নেওয়া। তারা যদি সত্যিই একে অন্যকে ভালোবাসতেন তাহলে এই বাহুল্যের কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ অন্যদিকে একই বিষয়ে অন্য আরেকজনের মন্তব্য, ‘এর মাধ্যমে তারা বিয়ে এবং নিজেদের সম্পর্ক এ দুটোকেই সস্তা বলে প্রমাণ করেছেন।’
