হরতালে যারা মানুষ পোড়ায় জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৮
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া হরতালের নামে নিরীহ মানুষ হত্যা করছেন। সন্ত্রাস ও ধ্বংসলীলা চালিয়েও উনি খুশি নন, উনি (খালেদা) আরো ধ্বংস আর অরাজকতা চান। পিপাসা মেটাতে উনি আর কতো রক্ত চান? তবে হরতালের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। নাশকতার ছবি না তুলে সহিংসতাকারীদের ছবি তুলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শনিবার বিকালে গণভবনে গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ভোজপুরে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ হতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তারা (বিএনপি) দেশের উন্নয়ন নয়, কেবল লাশ চায়। এই অশুভ শক্তিগুলো বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না। তারা অতীতে খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ যুগিয়েছে, এখন তারা খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় আনতে চায়। বিরোধী দলের ডাকা হরতালে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু থেকে শ্রমজীবী মানুষের কেউ তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অথচ তাদের আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি হরতালের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত থাকতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার ধারণা, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক ও সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ আপনাকে বাহবা দেবে; কিন্তু আমি মনে করি, জনগণ এ ধরনের অরাজকতা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, বিএনপি যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তা জাতির সামনে আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা শুধু সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে। দুই নেত্রীর টেলি-সংলাপ প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমি তাকে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছিলাম; কিন্তু বিরোধী নেত্রী যে ভাষায় আমার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন তা মোটেই শোভন ছিল না। এটি রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না। তিনি আমাকে বলেন, তিনি আমার সঙ্গে বসবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের পাঁচ বছরের শাসনকালে বাংলাদেশ একটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত সেই কালো অধ্যায়কে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চায়। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে তার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আগামী নির্বাচন সেভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। জনগণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অস্থায়ী সরকার দেখতে চায় না। শেখ হাসিনা হরতালের নামে যারা সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করার জন্য মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ফটিকছড়িতে জামায়াত-হেফাজতের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ঘটতে না পারে সে জন্য তার দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০২ জনের মাঝে চেক বিতরণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়া উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।