শচীন টেন্ডুলকার নিজের ২০০তম ও বিদায়ী টেস্টে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ভারতীয় দলসঙ্গীদের তার ক্রিকেট ঐশ্বর্যকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইনিংস ব্যবধানে জেতা খেলাটির মধ্য দিয়ে ৪০ বছর বয়সী টেন্ডুলকারের ২৪ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল। ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলে সর্বাধিক রান করার রেকর্ড গড়েন।
অশ্রুসজল নয়নে নিজের হোম গ্রাউন্ডে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানা এই ক্রিকেটারকে ভারত সরকার গতকাল শনিবারই সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারত রত্ন দেয়ার ঘোষণা দেয়।
মুম্বাইয়ে গতকাল লাঞ্চের আগে খেলাটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওয়াংখেড়ের দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান তাকে। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে আউট হয়ে যাওয়া শচীন এদিন দুই ওভার বলও করেন। কোন উইকেটের দেখা না পেলেও দলকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের ৭২তম টেস্ট জয় পেতে সাহায্য করেন। পরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দীর্ঘ ও আবেগঘন বক্তব্যে সতীর্থদের প্রতি ‘জাতিকে সেবার’ আহ্বান জানান তিনি।
আবেগের বানভাসির মধ্যেও তিনি বলেন, ‘২২ গজের মধ্যে সীমাবদ্ধ আমার জীবনের ২২ বছর, এটা বিশ্বাস করা কষ্টকর যে দুর্দান্ত এক অভিযাত্রা শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছাল।’ তিনি ২০ মিনিটের বক্তৃতায় একে একে তার জীবনে অবদান রাখা সবাই বাবা-মা, পরিবার-পরিজন, কোচ, সতীর্থ ও দর্শকদের কথা উল্লেখ করেন।
সতীর্থরা এরপরই তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ উইকেটটির পতনের পর সতীর্থরা গার্ড অব অনার দেন তাকে। সম্মান জানায় বিপক্ষ দল, এমনকি আম্পায়াররাও। এর আগে তিনি দৌড়ে যান সতীর্থদের কাছে এবং স্মারক হিসাবে একটি স্টাম্প তুলে নেন। মাঠ ছাড়ার আগে তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়। সে সময় মাঠের বড় পর্দায় ভেসে ওঠে ‘লিজেন্ডস নেভার রিটায়ার’।
ভারতীয়দের ‘ক্রিকেট ঈশ্বরে’ পরিণত হওয়া টেন্ডুলকার তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে ১০০টি সেঞ্চুরি করেন। জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর অভিষেক নেয়া এই ক্রিকেটার আগেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। গতকাল ক্রিকেটের ধ্রুপদী ধরন পাঁচদিনের খেলাটি থেকে যখন বিদায় নেন সে সময় রান সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫,৯২১ যার গড় ৫৩.৭৮। সবধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ৪৮.৫৩ গড়ে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৪,৩৫৭ রান।
অখণ্ড অবসরে সামনের দিনগুলোতে নষ্টালজিক শচীন হয়তো অনেক রেকর্ডের মধ্যেও একটি বেদনার কথা ভেবে কষ্ট পেতে পারেন, সেটি হল ট্রিপল সেঞ্চুরি না পাওয়া। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করা অপরাজিত ২৪৮ রানই ট্রিপলের পথে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা। নইলে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ঘরানাতেই সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরিসহ ব্যাটিংয়ের ডজন ডজন রেকর্ড তার দখলে।
