মায়ের দুধে খাদ্য উপাদান আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকে। যা শিশুর শারীরিক গঠন ও সামাজিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
মায়ের দুধে ল্যাকটাবুমিন ও ল্যাকটোগ্লোবিউলিন নামক দুটি উপাদান থাকে। যা শিশু অতি সহজে হজম করতে পারে।
এক নাগাড়ে দিনে-রাতে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয় না।
শিশুকে বারবার দুধ খাওয়ালে ও কোলে তুলে আদর করলে মা ও শিশুর মধ্যে মমতার বন্ধন সৃষ্টি হয়।
মায়ের দুধে শিশুর শরীরে কোনো অ্যালার্জি হয় না।
দুধপান করার সময় শিশুর দাঁতের মাড়ির ওপর চাপ পড়ে। এতে মাড়ি ও দাঁত শক্ত হয়ে ওঠতে সাহায্য করে।
মায়ের দুধ শিশুর শক্ত পায়খানা বা কোষ্টকাঠিন্য রোগ সারতে সাহায্য করে।
মায়ের দুধে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে বলে শিশুর কিডনির প্রতি চাপ কম পড়ে।
মায়ের দুধে চর্বি ও প্রোটিনের পরিমাণ যা থাকে তা অতি সহজেই হজম হয়ে যায়। তাই শিশু বারবার খেতে চায়।
মায়ের দুধে অ্যান্টি-বডি নামক একটি উপাদান থাকে যা শিশুকে নানা প্রকার রোগ হতে বাঁচিয়ে রাখে।
নিয়মিত যেসব শিশু মায়ের দুধ পান করে সেসব শিশু সাধারণত সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে কম ভোগে।
মায়ের দুধে ল্যাকটোফেরিন নামক লৌহ গঠিত এক প্রকার উপাদান থাকে যা শিশুর খাদ্যনালী এন্টামিয়া জাতীয় রোগের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
শিশু খালি গায়ে মায়ের বুকে লেগে থাকলে মায়ের দেহে এক ধরনের হরমোন তৈরি হয় যা দুগ্ধনালীতে দুধ বের হতে সাহায্য করে।
শিশু জন্ম হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো যায় তত তাড়াতাড়ি মায়ের ফুল বা অমরা (Placenta) পড়তে সাহায্য করে।
যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
মায়ের দুধে ‘টরিন’ নামক এক প্রকার এমাইনো অ্যাসিড থাকে যা শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খুবই প্রয়োজন।
নিয়মিত সন্তানকে বুকের দুধ দিলে মায়ের দেহের গঠন, স্তনের গঠন সুন্দর থাকে, স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
শিশুর রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস, আয়োডিন কমজনিত অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
সর্বোপরি শিশু অপুষ্টিতে ভোগে না।
