দরিদ্র মায়েদের স্বপ্ন পূরণ করে এবার বিশ্ব জয় করেছেন এ এইচ এম নোমান। তিনি বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবহিতৈষী কাজে অবদান রাখার জন্য ‘গুসি পিস প্রাইজ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড- ২০১৩’ লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি যিনি এই সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন। নোমান এনজিও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র-ডর্প এর প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেল। যে কারনে তিনি এ বিরল সম্মান অর্জন করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সা, বাসস্থান, সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ আমাদের দেশে হাজারো মানুষ এসব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন, দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য গঠন, শিক্ষা, বাসস্থান নিশ্চিতকরণ, মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাসকরণে তিনি ডর্প-এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা’দের নিয়ে ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কার্যক্রম পাইলট আকারে বাস্তবায়ন করেন।
এ ‘স্বপ্ন’ কার্যক্রমটি দারিদ্র্য নিরসনে সরকারী প্রতিশ্রুতি ত্বরান্বিত করার লক্ষে মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা-বাবা-শিশু কেন্দ্রিক পাঁচভিত্তি সম্বলিত একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম। মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’-এর ৫টি ভিত্তি হল: ১. স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জন্মনিয়ন্ত্রন কার্ড। ২. শিক্ষা ও বিনোদন কার্ড। ৩. একটি গৃহ ও একটি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন। ৪. জীবিকায়ন সরঞ্জাম। ৫. কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে উন্নয়ন ঋণ (ক্ষুদ্রঋণ) প্রদান করা।
ইতোমধ্যে স্বপ্ন প্যাকেজ কার্যক্রম স্প্যানিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা ‘আয়েসিদ’-এর সহায়তায় উপকুলীয় চর এলাকা লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর ও লক্ষ্মীপুর সদর, নোয়াখালীর চাটখিল ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত ৮৯২ জন মা-বাবা-শিশু তথা পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য নিয়ে কার্যক্রমটি পাইলট আকারে বাস্তবায়ন করেছেন। সরকারিভাবে নির্বাচিত মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত পরিবারগুলোকে উল্লেখিত ৫টি প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে।
এ এইচ এম নোমানের আবেদনের প্রেক্ষিতেই বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মাতৃত্বকালীন ভাতার উদ্যোগটি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তি করে। যার প্রেক্ষিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এখন সারাদেশে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে।
তার পাশপাশি তিনি দরিদ্র মা’দের মৌলিক অধিকার তুলে ধরার জন্য ‘মা সংসদ’ প্লাটফরম-এর পাইলট বাস্তবায়নকারী। তিনি সরকারকে সামাজিক বিনিয়োগ করে ‘পাবলিক পূয়র প্রাইভেট পার্টনারশীপ-পিপিপিপি’-এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ২০ বছর এক প্রজন্ম মেয়াদে ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য লভি করে যাচ্ছেন। এ ধরণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করায় ইতোমধ্যে তিনি ‘মাতৃবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
আগামী ২৭ নভেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠক এ এইচ এম নোমান ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবহিতৈষী’ কাজে অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, গুসি পিস প্রাইজ ইন্টারন্যাশনাল-ফিলিপাইনের ১৪৭৪ রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশে গঠিত একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এটি এশিয়ার মধ্যে প্রধানতম অ্যাওয়ার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ‘ক্যাপ্টেন গেমিনিয়ান যেবিয়াত গুসি’ মানবাধিকার রক্ষায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সাথে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন।
