ত রু ণী ক থা ........................

সেরাদের ‘সেরা’ রাইসা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৬
রাইসা আজাদ সেরা, আপন দ্যুতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া এক মেধাবী তরুণী, নিজের শ্রম আর মেধাকে কাজে লাগিয়ে ‘সেরা’ নামের সার্থকতাই যেন প্রমাণ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। বর্তমানে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতিতে স্নাতক ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত রাইসা অবশ্য নিজের কথা জানালেন একটু অন্যভাবেই, ‘আমার ধারণা আমার বয়সী অন্য অনেক ছেলেমেয়ের তুলনায় আমার অর্জন, অভিজ্ঞতা অনেক কম; কিন্তু নতুন ধরনের কিছু চেষ্টা করার সুযোগ সবসময়ই আমি কাজে লাগাতে চেয়েছি।’ আর এই নতুন ধরনের কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার তাগিদ থেকেই রাইসা শৈশব থেকে যুক্ত আছেন পড়াশোনার বাইরে বিভিন্ন কাজে। সাংবাদিকতার প্রতি একটা ঝোঁক ছোট থেকেই ছিল। নিজের আগ্রহ আর মায়ের উত্সাহে ৫ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০০৪ সালে যোগ দেন একুশে টেলিভিশনের ছোটদের জনপ্রিয় সংবাদ অনুষ্ঠান মুক্ত খবরে। চ্যানেলটি নতুন করে সমপ্রচার শুরু করার পর ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেন মুক্তখবরে সংবাদ উপস্থাপনা, সাথে সাথে কিছু রিপোর্টিং-এর কাজও। শিশু সাংবাদিক হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন উচ্ছ্বাসের সাথে, ‘২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মুক্তখবরে কাজ করি, জীবনের প্রথম ফিল্ড ওয়ার্কে নিজের সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের সাক্ষাত্কার নেয়ার স্মৃতি আমি কখনই ভুলব না। মুক্ত খবরে কাজ করতে গিয়ে অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্যে এসে অনেক কিছু শিখেছি। আমার সহকর্মীরা সবাই ছিল আমারই বয়সী, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেছি এতটা বছর, কিন্তু আঠারো বছর অতিক্রম করায় মুক্তখবর-এ এখন আর কাজ করা হয় না। কিন্তু ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখার।’ জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই গানের সাথে পরিচয় সেরার। প্রায় ৪ বছর বয়স থেকেই গান গাওয়া শুরু হয় তার। আর একটু বড় হওয়ার পর ভর্তি হয়ে যান দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যানিকেতন ছায়ানটে। আর সেখানেও পিছিয়ে ছিলেন না কখনই। রবীন্দ্রসংগীতকে সাথে নিয়ে ছায়ানটের সাথে তার আট বছরের পথচলায় তিনি অংশ নিয়েছেন রমনার বটমূলে বর্ষবরণসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। স্কুল জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সবসময় ব্যস্ত থেকেছেন বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতা কিংবা বিজ্ঞান উত্সব নিয়ে। সাধারণত ছাত্রজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের বাধার সম্মুখীন হতে হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে হয়ত অনেকের থেকেই নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করতেই পারেন সেরা, কেননা ছোট থেকেই সব ব্যাপারে পরিবারের উত্সাহ পেয়ে এসেছেন খুব ভালভাবেই। বিশেষ করে তার মায়ের অনুপ্রেরণা তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ছোট থেকে তার প্রতিটি কাজে, অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, উত্সাহ দানকে স্মরণ করতে তাই এক মুহূর্তও দেরি করলেন না সেরা। ভিন্ন কিছু করার তাগিদ থেমে থাকেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পরও। এ বছর স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন মানসিক সহায়তা দানকারী এক ভিন্নধর্মী সংস্থায়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন এই তরুণী, প্রচলিত ভর্তিযুদ্ধ কিংবা তথাকথিত সার্টিফিকেটের ডিগ্রি অর্জন নিয়ে তার বেশ আপত্তি আছে। তিনি দেশে থাকতে চান, জীবনে কিছুটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিদেশবিভুঁই হয়ে সারাজীবন অন্য দেশে দাসত্বে রাজি নন। দেশ নিয়ে তার ভাবনার কথা জানালেন এভাবে, ‘হয়ত এমন একটা দিন আসবে যখন ভিনদেশি কারো কাছে আমার দেশের নাম বললে বিরক্তি কিংবা অবজ্ঞা নিয়ে তাকাবে না, অথবা পার্শ্ববর্তী বড় কোন দেশের পাশের অবহেলিত দরিদ্র দেশ হিসাবে বিবেচনা করবে না, বরং পৃথিবীর প্রতি প্রান্তে বাংলাদেশ নিজ নামে গর্বের সাথে পরিচিত হবে। সেদিন দেখার জন্য আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দিয়ে যদি দেশের কোন কাজে আসতে পারি তবেই নিজের জীবনকে অনেকটাই সার্থক বলে ভাবতে পারব।’