আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার খসড়া বাজেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গতকাল সোমবার উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু নির্দেশনা দেন। প্রতিটি জেলায় সুষম উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বাজেট করার নির্দেশ দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ দিকনির্দেশনা নিয়েই এটি চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।
জানা গেছে, ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই বাজেটে নতুন করে কর ও ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে না। তবে টিআইএনধারী আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান এক কোটি মানুষকে করের আওতায় আনার পদক্ষেপ থাকবে। ভ্যাট আইন-২০১২ নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করবে সরকার। এবারের বাজেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিস্তারিত থাকবে। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। দেশের প্রতিটা গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার ঘোষণা থাকছে। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে গ্রামকে। যেখানে ইন্টারনেট, বিদ্যুত, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসন্ন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখে উন্নীত করা হবে। এবারের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হবে। বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা নগদ দশ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পান। ২০১৯-২০ বাজেটে তাদের ভাতা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমানে দুই ঈদে সমপরিমাণ দুটি বোনাস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস ভাতা ও বৈশাখী ভাতা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে। বাজেটে গরিব রোগীদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়ানো হবে।
