ফের শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। গতকাল রবিবার সকাল থেকেই এ অঞ্চলের শ্রমিকরা মজুরি বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত ৫ হাজার ৩ শত টাকার স্থলে ৮ হাজার ১ শত ১৪ টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা সড়কে গাড়ি ভাংচুর ও কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশের সাথে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আহত হয় শতাধিক লোক। এক পর্যায়ে এ অঞ্চলের শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
গতকাল সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বেরন এলাকায় হা-মিম গ্রুপের নেক্সট কালেকশন, শেড ফ্যাশন, স্টারলিং ক্রিয়েশন, স্টারলিং স্টাইল, ইয়াগি বাংলাদেশের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে রাস্তায় নেমে আসে। শ্রমিক বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়লে জিরাবো এলাকার রেডিয়েন্স, মাসকট, সাউদার্ন, পি-কার্ড বাংলাদেশ লিঃ, জামগড়া এলাকার দি রোজ, গ্রীন লাইন এবং সরকার মার্কেট এলাকার সেতারা ও ডেনিম নীট ওয়্যার গার্মেন্টস, কাঠগড়া আমতলা বাজার এলাকার আজমত ও ডেকো গ্রুপ, ম্যাগপাই ও কন্টিনেন্টাল কারখানার শ্রমিকরা একই দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের সমর্থনে বেরন, পুকুরপাড়, সরকার মার্কেট , নরসিংহপুর, শিমুলতলা, পলাশবাড়ি, ইউনিক, জিরানি বাজারসহ গোটা এলাকার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাইপাইল টঙ্গি সড়ক, নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়ক, সরকার মার্কেটসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেয় এবং সড়ক অবরোধ করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোঁড়ে শ্রমিকরা। পুলিশও লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষে শ্রমিক পুলিশ, পথচারী, পরিবহনের যাত্রি, সাংবাদিকসহ শতাধিক লোক আহত হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করে। পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় আশেপাশের শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শ্রমিকদের দাবি না মানায় প্রতিদিনই এ অঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশের জলকামান, রায়টকার, সাঁজোয়া যানের টহল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে একই দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুরে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। এসময় আশেপাশের ৪টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা এসময় কারখানার বাইরে বেরিয়ে এসে সাভার-সিংগাইর সংযোগ সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
গাজীপুরে গাড়ি-দোকান ভাংচুর
সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩০
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের উত্পাদন মজুরি(পিস রেট) বাড়ানোর দাবিতে এবং স্থানীয় এলাকাবাসী কর্তৃক শ্রমিকদের মারধরের ঘটনার জেরে গতকাল সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, জরুন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ, গাড়ি ও দোকানপাট ভাংচুর, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এদিকে শ্রমিকদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে শিল্প পুলিশের কনষ্টেবল রাশেদুল ও পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেলে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছে।
টঙ্গীতেও অসন্তোষ, অর্ধশত
কারখানায় ছুটি
টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল সকালে সাতাইশ রোডের মাসকো টেক্স কারখানার শ্রমিকরা মজুরি বোর্ড ঘোষিত বর্ধিত বেতন ৫ হাজার ৩শ’ টাকা নভেম্বর মাস থেকে দেয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ এসে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে সেখানকার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এক পর্যায়ে ভিয়েলা টেক্সের মালিক পক্ষের লোকজন কারখানা থেকে শ্রমিকদের জোর করে বের করে দিতে চাইলে শুরু হয় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে শ্রমিকরা কারখানায় ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে অফিসের সকল নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
