বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং ব্যবসায়ী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদেরকে রিমান্ড থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ প্রয়োজনে বিএনপি নেতাদেরকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
এক আবেদনের ওপর শুনানিশেষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না— এই মর্মে রুল জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৪ নভেম্বর ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নগরীর মতিঝিল থানায় দায়েরকৃত দুইটি মামলায় বিএনপির এই ৫ নেতাকে ৮ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। এই রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা। গতকাল নেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এজে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহায়তা করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন ফকির।
এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতিকেও রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা হাস্যকর। তথ্য থাকলে রিমান্ড কেন? তাই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, এটা নির্যাতন কি-না।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রতিদিন হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। বোমা মেরে ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এসময় এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল তখন হোটেল শেরাটনের সামনে বাসে গান পাউডার দিয়ে মানুষ মারা হয়েছিল। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা এ মামলায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এসময় মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ অবস্থায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে পুলিশ এসে আদালত কক্ষ থেকে আইনজীবী ছাড়া অন্যদের বের করে দেয়। এরপর আবার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আদেশ স্থগিত করে রুল জারি করে।
