এসএসসি পরীক্ষার বাংলা ও পদার্থবিজ্ঞান

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৮:০০
বাংলা প্রথমপত্র মোস্তাফিজুর রহমান লিটন সিনিয়র শিক্ষক : বাংলা বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল নিচের ছবিটি দেখে প্রশ্নের উত্তর দাও। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। উক্ত ভাষণে তিনি স্বাধীনতার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ক) ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ কবিতায় দৃপ্ত পায়ে কে হেঁটে আসেন? খ) কবি কেন বঙ্গবন্ধুকে-‘কবি’ বলেছেন? ব্যাখ্যা করো। গ) উদ্দীপকের ৭ মার্চের ভাষণের সঙ্গে আলোচ্য কবিতাটি কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ? নিরূপণ করো। ঘ) ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’-বাক্যটি বিশ্লেষণ করো। উত্তর: ক. ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ কবিতায় দীপ্ত পায়ে হেঁটে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উত্তর: খ. বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ ভাষায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলে কবি তাঁকে ‘কবি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। এ ভাষণে তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। এতে সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনে। এই মতবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই কবি বঙ্গবন্ধুকে ‘কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উত্তর: গ. উদ্দীপকের ৭ মার্চের্র ভাষণেরই পরিমার্জিত কাব্যিকরূপ আলোচ্য কবিতাটি যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের আহ্বান করা হয়েছে। উদ্দীপকের ভাষণের চিত্রকে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার ভঙ্গি লক্ষ করা যাচ্ছে। ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ কবিতাটিতে বঙ্গবন্ধুর এই ডাকেরই বিশদ রূপ। তাঁর ভাষণ শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কৃষক, কামার, শ্রমিক, ভবঘুরেসহ সব পেশার মানুষ মিলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সামনে এই ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু যা উদ্দীপক ও কবিতায় বিধৃত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা এই ভাষণের মাধ্যমে বাঙালির মনে জেগে ওঠে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়- গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি অনন্য শিল্প উপমাযোগ্য ভাষণ, যার মধ্যে একটি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল, স্বাধীন হওয়ার মন্ত্র ছিল। গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন এই ভাষণ জনস্রোতে পৌঁছে দিলেন, তখনই মুহুর্মুহু উচ্চারণ যেন স্বাধীনতার স্বপ্নীল সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলে দিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাষণই আলোচ্য কবিতাটির পারিমার্জিত কাব্যিকরূপ। উত্তর: ঘ. উদ্ধৃতিটিতে মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের্র স্বাধীনতার ঐতিহাসিক আহ্বান ও ঘোষণার চিত্রটি ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ আট মাস ২১ দিন স্থায়ী হয়, কিন্তু এ যুদ্ধের কারণ ছিল বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতনের ফল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ইতিহাসের অনেক পথ পাড়ি দিয়ে। শেখ মুজিবুর রহমান যদি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার আহ্বান না দিতেন, তাহলে হয়তো আমাদের স্বাধীনতার পথ আরও সুদীর্ঘ হতো। মাত্র ১৮ মিনিটের কালজয়ী এ ভাষণে তিনি যখন ‘এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে ডাক দেন, তখন দেশবাসীর মধ্যে দেখা দেয় দেশকে স্বাধীন করার এক দৃঢ় প্রত্যয়। লাখ লাখ লোক সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তানিরা আমাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকভাবে নিপীড়ন করতে থাকে। পাকিস্তানি শোষকদের কাছে বাংলার সাত কোটি মানুষ জিম্মি হয়ে যায়। এ দেশের ভাষা, অর্থসহ সব ক্ষেত্রেই তারা আগ্রাসী ভূমিকা চালায়, যার ফলে এ দেশ পিছিয়ে যেতে থাকে সবদিক থেকেই। এরই পরিণতিতে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে আবর্তিত হয় এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগ’ জয়লাভ করলেও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘গণসূর্যের’ মঞ্চে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং বজ্রকণ্ঠের এই বাণীই প্রতিভাসিত হয়েছে ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’-কবিতায় যেখানে বলা হয়েছে এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। তাঁর এ ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাঙালিরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, অর্জন করে বাংলাদেশের প্রিয় স্বাধীনতা। ইতিহাসে এ ঘোষণার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে বলে মনে করেন কবি।