অন্য কোন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান
হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
রাজনৈতিক কোন্দলের রোষানলে সাধারণ জনতার জীবন ভস্মীভূত। আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা বেরিয়ে আসে আর আমাদের দেশে চলন্ত গাড়ি থেকে জ্বলন্ত মানব দেহ বেরিয়ে আসে। এ যেন মহাসড়কের বুকে মানুষ নামের কলঙ্ক এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক প্রজ্জ্বলিত কৃত্রিম দাবানল। এই দাবানলে ছারখার হয়ে যাচ্ছে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মায়ের কলিজার টুকরো একমাত্র সন্তান অথবা পরিবারের আশার আলো মেধাবী মুখ। শিশু-কিশোর, তরুণ, বৃদ্ধ, নারীসহ কেউই রেহাই পাচ্ছে না এর করাল গ্রাস থেকে। এ সবকিছুই হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই। কারণ, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা আশায় গুড়েবালি। সুশীল সমাজ এ বিষয়ে একমত যে, দেশে প্রাজ্ঞ লোকের অভাব নেই। যদি প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে সরকার প্রধান করে তার অধীনে নির্বাচন দেয়া হয় তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব ।
মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান
অনার্স শেষবর্ষ,
ইংরেজি বিভাগ,
ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা
দু’ নেত্রীকে এক টেবিলে
বসতে হবে সুষ্ঠু
নির্বাচনের স্বার্থে
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের সকল স্তরকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। কেননা দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসনই পারে একটিমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি করতে। ১০ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দরকার হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে কারণ আমি মনে করি যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পায় তবে নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না। শুধুমাত্র তাই নয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্বাচন পরিচালনা করলে নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য এবং সকলের সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে অর্থাত্ নির্বাচন নিয়ে কেউ-কোন অবান্তর প্রশ্ন করতে পারবে না। সবশেষে দেশ ও জাতির স্বার্থে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা রেখে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে শেষ করলাম আজকের মতো।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
গাজীপুর, বাংলাদেশ
সমঝোতা আর ঐকমত্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের একমাত্র পথ
দু’দলের প্রধান নেতৃবৃন্দের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে আর কোন কালো অধ্যায় দেশের ইতিহাসের পাতায় আঁকবেন না। গণতন্ত্রকে মুক্তি দিন, মুক্তি দিন জনগণকে, শান্তিতে থাকতে দিন দেশের মানুষকে। নোংরা রাজনীতির খেলায় বাজি না রেখে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ এবং ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে জনগণকে অবাধ সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ছাড় দেয়ার মানসিকতায় উপনীত হন। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ফাটল বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করুন। নির্বাচনকালীন সরকার সর্বদলীয় হবে না নির্দলীয়-নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে অনতিবিলম্বে ঐকমত্য হন। সমঝোতা আর ঐকমত্য সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের একমাত্র পথ। এতে করে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আপনার সদিচ্ছা, প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শিত হবে। অপরদিকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
মো. আহসান নবী
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, অনার্স-৪র্থ বর্ষ,
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর
সংলাপ-সংলাপ খেলা থেকে
বেরিয়ে আসতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
ক্ষমতার প্রতি লোলুপ দৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ প্রতি পাঁচবছর অন্তর-আন্তর সাংবিধানিক সংকটে পড়ে। যেমনি পাটা-পোতার ঘষাঘষির শিকার হয় হলুদ-মরিচ; তেমনি এসংকটে বলির পাঁঠা হয় সাধারণ জনগণ। আজকে সাধারণ মানুষ সংকটময় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বৃহত্ দু’দলের সংলাপের টেবিলে বসা ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই; কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর, সবাই সংলাপের কথা মুখে মুখে উচ্চারণ করলেও কার্যকরী পদক্ষেপের আদৌ দেখা মিলছে না। ফলে বিগত ৩ সপ্তাহে বিরোধী দলের আন্দোলন ও সরকারের স্টীম রোলারে পিষ্ট হয়েছে অর্ধ-শতাধিক তাজা প্রাণ। অনেকে হয়েছে বিধবা; অনেকে আবার পিতৃহারা, এতিম। অনেক সন্তানহারা পিতা-মাতা আজ দিশেহারা। এ মৃত্যুর কি আদৌ জবাব আছে; এর দায়ভার কে নিবে ? একমাত্র সংলাপই পারে সংকট উত্তরণে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী হাওয়া বইয়ে দিতে। তাই সংলাপ-সংলাপ খেলা থেকে বেরিয়ে এসে, প্রকৃতপক্ষে সংলাপের টেবিলে বসা এবং সকল দলের অংশগ্রহণ করার মত একটি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।
মোহাম্মদ শিহাবউদ্দীন (ইনান)
স্নাতকোত্তর, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
