সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বালাবাড়ি গ্রামের ২০টি হিন্দু বাড়ির দরজার সামনে মরা গরুর মাথা ও হাঁড়-গোড় ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। একই সময় গ্রামের মন্দিরের চুলা ভাংচুর করে সেখানেও গরুর মাথা ও হাঁড়-গোড় ফেলেছে তারা। রবিবার গভীর রাতে কোন এক সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে গ্রামটির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। স্থানীয় নব কুমার সাহা বাদী হয়ে গতকাল সোমবার বেলকুচি থানায় মামলা করেছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের সূত্রধর পাড়ার প্রভাত, সুশান্ত, সুভাষ, শ্যামলাল, গোপাল, লঙ্কেশ্বর, প্রেমলাল, পরিতোষ, ভীম, অর্জুন, উজ্জল সূত্রধরসহ ২০টি পরিবারের সদস্যরা সোমবার ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজায় গরুর মাথা ও হাঁড়-গোড় দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় পুলিশ এলাকার শাহ আলম মাস্টারের ছেলে বোরহান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
সুশান্ত, প্রভাত ও গোপাল সুত্রধর জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে জিনিসগুলো দেখে সবাই হতবাক ও আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরপর থেকে আর কারো নাওয়া-খাওয়া নেই। তারা জানান, আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে এলাকা ছাড়া করার পাঁয়তারা করছে জামায়াতের লোকজন। কিন্তু আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে যাবো না। তারা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন।
গ্রামের হিন্দু গোত্র প্রধান ও মামলার বাদী পল্লী চিকিত্সক নব কুমার সাহা জানান, এর আগেও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গ্রামের মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এ ঘটনাটিও তারাই ঘটিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতা নবী নেওয়াজ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বেলকুচি থানার ওসি আব্দুল হাই জানিয়েছেন, প্রকৃত দোষীকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তায় কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রাবিতে মানববন্ধন
রাবি সংবাদদাতা জানান, বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক কাজী মামুন হায়দার রানা, সুস্মিতা চক্রবর্তী, ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া, অমিত কুমার দত্ত, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বাসুদেব রায়, সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ শুভ, ছাত্রনেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী, ইকবাল কবীর, ফারুক ইমন, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে জোটভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদী গণসংগীত পরিবেশন করেন।
