চেনা প্রাণী :ভালুক

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:০১
ভালুক বা ভাল্লুক এর ইংরেজি নাম Asiatic black bear বা Himalayan black bear বা Moon bear বলে। যাকে বাংলায় কালো ভালুক বলে। বৈজ্ঞানিক নাম- Selenarctos thibetanus (থাইবিটনাস) ভালুক দিবাচর বা নিশাচর হয়ে থাকে। এরা পায়ের তলা নির্ভর করে চলে। এর জন্য এরা মাটিতে ভালো করে চলতে পারে। এরা ভালো সাঁতার দিতে পারে, গাছেও উঠতে পারে। মহুয়া ফুল ভাল্লুকের খুব প্রিয়। মানুষ ভাল্লুক পোষে খেলা দেখায়। ভাল্লুক লড়তেও পারে। ভালুকের দেহ চকচকে ও মসৃণ কাল বর্গের। লোক ছোট। দেহ এই লোম বা চুল দ্বারা আবৃত। উল্টো অর্ধচন্দ্রকার বা অশ্বখুরাকৃতি’র সাদা চিহ্ন বুকের কাছে দেখা যায়। এদের চিবুক সাদা, ঠোঁট সাদাটে এবং নখরগুলো কালো বর্ণের, মুখমন্ডল লোমহীন এবং তা বাদামি বর্ণের। পুরুষ ভালুকের তুলনায় মেয়ে ভালুক অপেক্ষাকৃত কম ওজনের। ভাল্লুক বড় আকারের প্রাণী। এরা প্রাণী শিকার করে খায়। ফল, ফুল, গাছের মূল, ঘাস, পিঁপড়া ইত্যাদি খায়। মৌমাছির চাক এদের প্রিয় খাদ্য। ভাল্লুক ১ থেকে ২ বছরের পর বয়স্ক হতে শুরু করে। এদের গর্ভধারণ ৭ মাস, স্ত্রী ভাল্লুক ২/৩টি বাচ্চা দেয়। মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় এবং বছরখানেক যত্ন নেয়। ভাল্লুকের বর্তমানে সংখ্যা অত্যন্ত কম। কালা ভাল্লুক বাংলাদেশের বৃহত্তম সিলেটে পাওয়া যায়। এরা খুব বিপজ্জনক প্রাণী। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, রাশিয়া, চীন, জাপান ইত্যাদি দেশে এ প্রজাতি পাওয়া যায়। হিমালয়ের বিভিন্ন শৈলধাপে, নেপালে এ ভাল্লুক দেখা যায়। ভালুকের আরো ৩টি প্রজাতি বাংলাদেশে পাওয়া যায়। এগুলো হলো: মালয়ী ভালুক, সাধারণ ভালুক ও বাঁশ ভালুক।